এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত সাহেবকে ভালোবেসে তার পক্ষে কাজ করার কারণে
আমাকে নিয়ে ফেক আইডি দিয়ে উস্কানিমূলক তথ্য সম্প্রচারের প্রতিবাদ জানাচ্ছি
। বিভিন্ন ফেক আইডি থেকে উল্টাপাল্টা লেখালেখি চলছে। এর মধ্যে “দৈনিক ঝামেলা টিভি” নামে একটি ফেক আইডি দেওয়ানগঞ্জ থেকে খোলা হয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে—আমি নাকি গাঁজা খেয়ে বিএনপির পক্ষে ভোট চাইছি!
আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই—আমি আপনার মত তাতি লিগের সাংবাদিক নই। আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নই। আমি জনগণের সাংবাদিক। জনগণের ভালোবাসা ও তাদের কথার ভিত্তিতে আমি মিল্লাত ভাইয়ার পক্ষে কাজ করেছি। কারণ, আমি যখন দেওয়ানগঞ্জের অলিগলি ঘুরে মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়েছি, তখন তাদের মুখে মিল্লাত ভাইয়ার প্রশংসাই বেশি শুনেছি। সেই মানুষগুলোর অনুভূতি থেকেই তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জন্মেছে।
আমি দেওয়ানগঞ্জে জন্মাইনি। ২০২০ সাল থেকে এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছি। যদি জানতাম, কিছু মানুষ এতটা কুটিল সমালোচনাকারী, তাহলে হয়তো আমি অন্য কোথাও বসবাসের সিদ্ধান্ত নিতাম। মিল্লাত ভাইয়াকে আমি আগে চিনতাম না, এই বছর থেকেই তাকে চিনি। তার অতীত কাজ—গরিবদের পাশে দাঁড়ানো, নদীভাঙা মানুষের ভিটেমাটি কিনে দেওয়া, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঋণ সহায়তা, স্কুল-কলেজ ও রাস্তা নির্মাণ—এসব কাজের কথাই মানুষের মুখে মুখে শুনে তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা তৈরি হয়েছে।
মানুষের মন এমনি এমনি জয় করা যায় না। তিনি অতীতে এমনভাবে মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন যে, অনেকেই মিল্লাত এমপি ছাড়া আর কোনো এমপির নামই জানেন না। আমি শুধু আশা করি, তিনি যেন আবারও নদীভাঙা, দুঃখ-কষ্টে থাকা মানুষগুলোর কথা ভাবেন।
“ঝামেলা টিভি” আমার চেহারা নিয়েও কটূক্তি করেছে। আমি গরিব মানুষ। অল্প বয়সে আমার বাবা মারা যান। মা চলে গেছেন তার বাবার বাড়িতে। দুঃখ, টেনশন আর কষ্ট নিয়ে অনেক রাত ঘুম আসে না। মানুষের চেহারা এমনি এমনি ভেঙে যায় না।
আমার শিক্ষা নিয়েও কথা বলা হয়েছে। করোনার সময় অনেক শিক্ষার্থী ঝরে গেছে, আমিও তাদের একজন। তবে আমার কাজ ভিডিও ধারণ করা—ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কাজ। এত উচ্চশিক্ষা আমার কাজে বাধা নয়। সাংবাদিকতার কিছু কোর্স করার ইচ্ছা আছে, সময়ের অপেক্ষায় আছি।
দেওয়ানগঞ্জে এত মানুষ থাকতে আমাকে নিয়েই কেন এই অপপ্রচার, আমি বুঝতে পারি না। “তাতি লীগ” বলার কারণ—“ঝামেলা টিভি”র লেখার ধরন আমাদের দেওয়ানগঞ্জের কিছু লোকের লেখার ধাঁচের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।
আমার নানা ভাই ১৯৭১ সালে দেওয়ানগঞ্জের মানুষের জন্য জীবন দিয়েছিলেন। পাকিস্তানিরা তার লাশ পর্যন্ত ভাসিয়ে দিয়েছিল। এই ঘটনাটি আমার বাবা ও বড় মামার সামনে ঘটেছিল। তাই দেওয়ানগঞ্জবাসীর কাছে আমার আবেদন—আপনারা আমার পাশে থাকবেন। অন্যায়, জুলুম ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমি সবসময় প্রতিবাদ করে যাব।
আমাকে চাঁদাবাজ বলা হয়েছে। আমি কার কাছ থেকে চাঁদা নিয়েছি, সেটাও আমি নিজে জানি না! এ ধরনের অপপ্রচারের কোনো প্রমাণ তারা দিতে পারবে না বলেই ফেক আইডি ব্যবহার করছে।
আমি সবার কাছে যাই, সাক্ষাৎকার নিই, প্রশ্ন করি—এটাই হয়তো কিছু মানুষের সহ্য হয় না। কেউ কেউ নেতা-কর্মীদের কাছেও আমার বিরুদ্ধে কথা বলে। আমি শুধু অনুরোধ করি—এভাবে কারও জীবন নষ্ট করবেন না।
আমি এক সময় রাজধানী টিভিতে কাজ করতাম। নিয়মিত রিপোর্ট পাঠাতাম। কিন্তু নানা বাধার কারণে এখন দেওয়ানগঞ্জ থেকে আর কোনো সংবাদ সেখানে যায় না। আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি, যেন আবার কোনো ভালো চ্যানেলের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাই।
সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। পাশে থাকবেন।