প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ২:২৭ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ৩:২৮ পি.এম
চাটখিলে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের এন্তার অভিযোগ ॥ ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা
চাটখিলে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের এন্তার অভিযোগ ॥ ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা
নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালী চাটখিল আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা উষা রাণী মজুমদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্চাচারিতার এন্তার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ ২৬ বছর একই স্কুলে চাকুরী, ভর্তি বাণিজ্য, অতিরিক্ত ফিস আদায়, কমিটি গঠনে অনিয়ম, ক্লাসে ফাঁকি দেয়া, কাগজ না কাটা এবং স্কুলের পিয়নদের ব্যাক্তিগত কাজে ব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং স্বেচ্চাচারিতার কারণে ধ্বংসের মুখে স্বনামধন্য বিদ্যালয়টি। তাই অভিভাবকরা দ্রুত তাকে অপসারণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।
সূত্র জানায়, চাটখিল আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপজেলার কর্মকর্তাদের সন্তানদের পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করছে। দীর্ঘ কয়েক যুগ থেকে অত্র স্কুলের সুনাম রয়েছে| কিন্তু বর্তমানে স্কুলের প্রধান শিক্ষিক উষা রাণী মজুমদারের স্বেচ্চাচারিতা, দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে স্কুলের সুনাম নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে স্কুলটি। বিশেষ করে বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিস্টদের দোসর হিসেবে উষা রাণী মজুমদার ফ্যাসিস্টের সাথে যোগসাজসে দুর্নীতি ও অনিয়মের স্বর্গরাজ্য তৈরি করে। দীর্ঘ ২৬ বছর একই স্কুলে চাকুরী, ভর্তি বাণিজ্য, অতিরিক্ত ফিস আদায়, কমিটি গঠনে অনিয়ম, ক্লাসে ফাঁকি দেয়া, কাগজ না কাটা এবং স্কুলের পিয়নদের নিজের ব্যাক্তিগত কাজে ব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং স্বেচ্চাচারিতা করে আসছে দেদারচে| তার এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ হয়ে পূর্বে কয়েকবার চাটখিল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ দিলেও সে তাদের ম্যানেজ করে বহাল তবিয়তে থেকে যায়| তার স্বামী সহকারী শিক্ষা অফিসার হওয়ায় সে বেপরোয়াভাবে দুর্নীতি ও অনিয়ম করে যাচ্ছে|
সূত্র আরো জানায়, ২০২৩ সালে তার যোগসাজসে উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা মো.বজলুর রহমান ওরফে ভিপি লিটনকে ভুয়া অভিভাবক সাজিয়ে স্কুলের কমিটিতে আনা হয়। ওই নেতা বি.এ পাশ না করে এবং তার কোন সন্তান এই স্কুলে না পড়া সত্ত্বেও প্রধান শিক্ষক উষা রানীর সহযোগিতায় অনিয়মের মাধ্যমে কমিটিতে আসে। এই ঘটনায় অপর এক অভিভাবক মোঃ শামছুল আলম চাটখিল উপজেলা শিক্ষা কমিটি বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেও কোন লাভ হয় নি। এছাড়া বিভিন্ন সময় ছাড়পত্রের নামে এবং স্কুলের উন্নয়নের নামে স্থানীয় ধণাঢ্য অভিভাবকদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করে আসছে| প্রতি বছর বরাদ্ধকৃত স্লীপের টাকা যথাযথা ব্যয় না করে হাতিয়ে নেয় সে। এই ঘটনায় অনেক অভিভাবক ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমের নিকট অভিযোগ প্রদান করে। এছাড়া স্কুলের পিয়নকে তার ব্যাক্তিগত কাজে ব্যবহার করে এবং কথা না শুনলে তাকে বেতন কাটাসহ নানাভাবে হয়রানি করে। অপরদিকে চাটখিল উপজেলা আবাসিক কোয়াটারে বরাদ্ধ না থাকা সত্ত্বে ও সে তার ভাগ্নির নামে বরাদ্ধ নিয়ে বসবাস করে আসছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানায়, স্কুলের সুনামের কারণে তাদের সন্তানদের এই স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন। কিন্তু স্কুলের বর্তমান প্রধান শিক্ষিকা তার ইচ্ছে মতো স্কুল চালান। সে বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিস্টেদের সাথে আতাঁত করে বিভিন্ন অপকর্ম করে স্কুলকে ধ্বংসের দিকে ধাবিত করছে।
প্রধান শিক্ষিকা উষা রাণী মজুমদার অভিযোগের বিষয়ে তিনি অস্বীকার করে বলেন, এসব অভিযোগ সঠিক নয়।
এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইশরাত নাসিমা হাবীব অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়ে বলেন, আমার অফিস রিসিভ করে তা ফাইলনোট আকারে দেয়। তাই এই মুহূর্তে স্মরণ করতে পারছি না,দেখে আমাকে বলতে হবে।
www.bangladeshcrime24.com