প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ২:৫৩ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ১১:২৪ এ.এম
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি মোশারফ এখনো বহাল তবিয়তে: সাংবাদিকদের নিয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্যে এলাকায় উত্তেজনা
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি মোশারফ এখনো বহাল তবিয়তে: সাংবাদিকদের নিয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্যে এলাকায় উত্তেজনা
নিজস্ব প্রতিবেদক, মাধবপুর (হবিগঞ্জ)
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের শাহজালাল সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি মোহাম্মদ মোশারফ এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি নিজের রাজনৈতিক পরিচয় গোপন রেখে স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থেকে বীরদর্পে চলছেন। শুধু তাই নয়, তার বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের নিয়ে উস্কানিমূলক কথা বলারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পরিচয় গোপন ও কর্মস্থল
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪ সালে ঘোষিত শাহজালাল সরকারি কলেজ (সাবেক শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ) শাখা ছাত্রলীগের কমিটির সভাপতি ছিলেন মোহাম্মদ মোশারফ। তার বাড়ি মাধবপুর উপজেলার ২নং চৌমুহনী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের কেশবপুর গ্রামে। সরকার কর্তৃক ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পরও তিনি এলাকায় অবস্থান করছেন। বর্তমানে তিনি মাধবপুর-চুনারুঘাট এলাকার বর্তমান সংসদ সদস্যের মালিকানাধীন সায়েহাম নিট কম্পোজিট লিমিটেডে ‘স্টোর কোয়ালিটি কন্ট্রোলার’ হিসেবে কর্মরত আছেন।
সাংবাদিকদের হুমকি ও উস্কানি
অভিযোগ রয়েছে যে, ইদানীং নিজের বিতর্কিত পরিচয় আড়াল করতে এবং আইন-শৃঙ্খলার হাত থেকে বাঁচতে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের টার্গেট করেছেন। সাংবাদিকরা তার রাজনৈতিক পরিচয় ও কর্মকাণ্ড নিয়ে লেখালেখি করতে পারেন—এমন আশঙ্কায় তিনি প্রকাশ্যে ও সামাজিক মাধ্যমে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্য করছেন। তার এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
প্রশাসনের কাছে বিচার দাবি
নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা হওয়া সত্ত্বেও মোশারফের অবাধ বিচরণ এবং সাংবাদিকদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে ফুসে উঠেছে মাধবপুর উপজেলার সাংবাদিক সমাজ। স্থানীয় সংবাদকর্মীরা অবিলম্বে মোশারফের অবস্থান নিশ্চিত করে তাকে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান:
"একজন নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা হয়েও সে যেভাবে সাংবাদিকদের নিয়ে উস্কানিমূলক কথা বলছে, তা নজিরবিহীন। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তার গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি যাতে সে আর কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে।"
মাধবপুর উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তবে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
www.bangladeshcrime24.com