বহিষ্কারের খবরে কাঁদলেন বিএনপি নেতা, জয়ী হয়ে দলে ফেরার প্রত্যয়
স্টাফ রিপোর্টার,যশোর।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বহিষ্কৃত হয়েছেন যশোরের মনিরামপুর থানা বিএনপির সভাপতি শহীদ ইকবাল হোসেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বুধবার রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। বুধবার রাতে যখন বহিষ্কারের খবরটি জানাজানি হয়, তখন শহীদ ইকবাল দলীয় কার্যালয়ে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। প্রিয় নেতার বহিষ্কারের খবর শুনে সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে শহীদ ইকবাল বলেন, দল তাকে বহিষ্কার করলেও তিনি বিএনপি ছেড়ে কোথাও যাবেন না। পদ-পদবি না থাকলেও তিনি আমৃত্যু দলের আদর্শে অবিচল থাকবেন। তিনি আরও জানান, মূলত মনিরামপুর আসনটি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই তিনি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন এবং জয়ী হয়ে পুনরায় নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিএনপিতে ফিরে আসার শপথ করেন। এ সময় উপস্থিত সমর্থকেরা তাকে সান্ত্বনা দেন এবং নির্বাচনী লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
মনিরামপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই এ প্রসঙ্গে বলেন, মনিরামপুরে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বারবার জোটের শরিক প্রার্থীদের কারণে বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। বিগত সরকারের আমলে এই এলাকায় ১২ জন নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে এবং শহীদ ইকবালের বাড়িতেই ১০ বার হামলা চালানো হয়েছে। অসংখ্য মামলায় জর্জরিত হয়েও তারা মাঠ ছাড়েননি। তাই এবার জোটের হাত থেকে ধানের শীষ পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে তারা শহীদ ইকবালের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের বিশ্বাস, নির্বাচনে জয়লাভ করলে দল পুনরায় তার হারানো পদ ফিরিয়ে দেবে।
উল্লেখ্য, শহীদ ইকবাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মনিরামপুর থানা বিএনপির নেতৃত্বের হাল ধরে আছেন। এবারের নির্বাচনে যশোর-৫ আসন থেকে দল তাকে প্রথমে প্রাথমিক মনোনয়ন দিলেও পরে তা পরিবর্তন করে জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের রশীদ আহমদকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কলস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের মাঠে নামেন। এর আগে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়াই করে তিনি পরাজিত হয়েছিলেন এবং ২০১৮ সালেও জোটের স্বার্থে তার মনোনয়ন পরিবর্তন করা হয়েছিল। এবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটায় তিনি স্বতন্ত্র লড়াইয়ের পথ বেছে নেন।