প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ১২:১৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ৫, ২০২৬, ৫:১১ এ.এম
মনপুরায় বাজারকে কেন্দ্র করে অপপ্রচার: স্থানীয়দের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ, সত্যতা মিলেনি অভিযোগের
মনপুরায় বাজারকে কেন্দ্র করে অপপ্রচার: স্থানীয়দের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ, সত্যতা মিলেনি অভিযোগের
মোঃ শাকিল খান রাজু সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
ভোলার মনপুরা উপজেলার মাস্টারহাট বাজারকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি অভিযোগকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সরেজমিন অনুসন্ধান, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগটির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, বাজার কমিটি ও ব্যবসায়ীরা একযোগে এ ঘটনাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে উল্লেখ করেছেন।
জানা যায়, একটি ফেসবুক পোস্টে বাজারের এক ব্যবসায়ীকে জড়িয়ে হামলা, চাঁদাবাজি ও অর্থ লুটের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। পোস্টটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক মাধ্যমে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে। তবে স্থানীয়রা বলছেন, বাস্তবে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।
মনপুরা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সামাজিক মাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া এ ধরনের মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। এতে ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের ক্ষতি হয়। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
মাচাহারহাট বাজার কমিটির সহ-সভাপতি সাইফুল ডাক্তার বলেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট একটি ঘটনা। বাজারে এমন কোনো সহিংসতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে।
বাজারের ব্যবসায়ী আব্বাস বলেন, এই অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা ও বানানো। আমরা বাজারে ছিলাম, কিন্তু এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।
একইসঙ্গে বাজার ব্যবসায়ী নাসির বেপারী জানান, আমরা ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বাজারে উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু এরকম কোনো ঘটনা আমরা দেখিনি। সামাজিক মাধ্যমে যেভাবে প্রচার করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাসুদ পাটোয়ারী অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, “উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়ানো হয়েছে। এটি আমার ব্যক্তিগত ও সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। যাচাই-বাছাই ছাড়া এ ধরনের সংবেদনশীল তথ্য প্রচার সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং নিরপরাধ মানুষকে হয়রানির মুখে ফেলে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি এ ধরনের অপপ্রচারকারীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, সাধারণ জনগণও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের গুজব বা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে কেউ সমাজে অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
www.bangladeshcrime24.com