মহাসড়কে ধান শুকানোয় বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবি
গাইবান্ধা থেকে মোঃ আবু জাফর মন্ডলঃ
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মহাসড়কের ধীরগতির (স্লো) লেনে ধান শুকানোর প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সড়কের একটি বড় অংশ ধান শুকানোর কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় ধীরগতির যানবাহনগুলো বাধ্য হয়ে দ্রুতগতির (ফাস্ট) লেনে চলাচল করছে। ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি। আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পলাশবাড়ী পৌর শহর থেকে কোমরপুর পর্যন্ত মহাসড়কের একাধিক স্থানে কৃষকরা নিয়মিতভাবে ধান শুকাচ্ছেন। এতে মহাসড়কের ধীরগতির লেন কার্যত দখল হয়ে যাচ্ছে। ফলে অটোরিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল ও অন্যান্য ছোট যানবাহন বাধ্য হয়ে দ্রুতগতির লেনে উঠে যাচ্ছে। এতে বাস, ট্রাক ও অন্যান্য ভারী যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সড়ক ব্যবহারকারীরা জানান, ঈদযাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় অন্তত চারজনের প্রাণহানি এবং বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে অনেক দুর্ঘটনার ঘটনা আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত না হওয়ায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সচেতন নাগরিকদের মতে, মহাসড়কে ধান শুকানো শুধু সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘনের শামিল নয়, এটি জননিরাপত্তার জন্যও একটি বড় হুমকি। বিশেষ করে রাতের বেলা, কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়ায় সড়কের ওপর ছড়িয়ে থাকা ধান ও মানুষের উপস্থিতি মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠতে পারে।
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মহাসড়ক যান চলাচলের জন্য নির্ধারিত। সেখানে কৃষিপণ্য শুকানো কিংবা অন্য কোনো কাজে সড়ক ব্যবহার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য অসাবধানতাও বড় ধরনের প্রাণহানি ও আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
এদিকে ঈদ উপলক্ষে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ প্রতিদিনই বাড়ছে। তাই ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে মহাসড়কে ধান শুকানো বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
তাদের দাবি, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা, মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে হাইওয়ে পুলিশের টহল জোরদার এবং আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, “একটি দুর্ঘটনা শুধু একজন মানুষের জীবনই কেড়ে নেয় না, ধ্বংস করে দেয় একটি পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ। তাই ঈদযাত্রাকে নিরাপদ করতে এখনই প্রশাসনের কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।”
সচেতন মহলের প্রত্যাশা, জনস্বার্থ ও সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং মহাসড়ককে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় নজরদারি আরও বাড়াবে।