প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ৫:৩৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ৫:০২ এ.এম
মোরেলগঞ্জে কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণে বাধা ও ভাংচুরের অভিযোগ; ভুক্তভোগী আব্দুল আউয়াল হাওলাদারের ন্যায়বিচারের দাবি
মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার
খাউলিয়া ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া এলাকায় দাগ নং-৪১৯১-এর একটি জমিকে কেন্দ্র করে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণে বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নির্মাণাধীন স্থাপনায় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হিসেবে আব্দুল আউয়াল হাওলাদার ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী আব্দুল আউয়াল হাওলাদার অভিযোগ করেন, তিনি তার বৈধভাবে ক্রয়কৃত জমিতে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের কাজ শুরু করলে জয়নাল আবেদীন লোকজন নিয়ে এসে কাজে বাধা দেন। পরবর্তীতে রাতের আঁধারে নির্মাণাধীন স্থাপনায় ভাঙচুর চালানো হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন,
“আমি আমার নিজস্ব জমিতে কাজ করতে গেলে বারবার বাধা দেওয়া হচ্ছে। আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ প্রভাব খাটিয়ে আমাকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি।”
আব্দুল আউয়াল হাওলাদার আরও অভিযোগ করেন, তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এসব তথ্যের কোনো ভিত্তি নেই এবং তার সামাজিক ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই এ ধরনের অপপ্রচার করা হচ্ছে।
তিনি জানান, দাগ নং-৪১৯১-এর জমির মালিকানার পক্ষে তার কাছে ক্রয় দলিল, নামজারি সংক্রান্ত কাগজপত্র, খতিয়ান/রেকর্ডপত্র, ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) রশিদসহ প্রয়োজনীয় সকল বৈধ দলিল রয়েছে, যা ইতোমধ্যে আদালতে দাখিল করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উক্ত জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলমান রয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। দেওয়ানি বাটোয়ারা মামলা (নং-৪৯/২৩) চলমান থাকায় আদালত উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
অন্যদিকে অভিযুক্ত জয়নাল আবেদীন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জমিটি প্রায় ৩০ বছর আগে তার পিতা ফকরুল ইসলাম ক্রয় করেন এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। তার দাবি, প্রতিপক্ষ পক্ষ হঠাৎ করে জমিতে কাজ শুরু করলে তিনি বাধা দেন এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
এ বিষয়ে সন্ন্যাসী পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আবজাল হোসেন জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধটি আদালতে বিচারাধীন এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে বলা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, চালিতাবুনিয়া মৌজার এস.এ. ১৭৪২ ও এস.এ. ৮৯৩ খতিয়ানভুক্ত জমিসহ দাগ নং-৪১৯১-এর একাধিক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মালিকানা ও দখল বিরোধ চলছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক উচ্ছেদ, ভাঙচুর ও হুমকির অভিযোগ করে আসছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, আব্দুল আউয়াল হাওলাদারের অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা প্রয়োজন এবং একইসঙ্গে গণমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের সত্যতা যাচাই করাও জরুরি। তাদের মতে, চলমান বিরোধের স্থায়ী সমাধান কেবল আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সম্ভব।
www.bangladeshcrime24.com