শিক্ষকরা নিজেরাই অদক্ষ, শিক্ষাদান নিয়ে চরম অবহেলার অভিযোগ: ক্ষোভে ফুঁসছে কুমরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এলাকাবাসী
ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি: মিলন সিদ্দিকী
ধামরাই পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কুমরাইল এলাকার ১৬৬ নং কুমরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিজেরাই মৌলিক শিক্ষায় অদক্ষ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মানসম্মত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্লাস চলাকালীন সময়ে শিক্ষকরা পাঠদানের পরিবর্তে মোবাইল ফোন ব্যবহারে ব্যস্ত থাকেন। এতে শিক্ষার্থীরা পাঠে মনোযোগ হারাচ্ছে এবং শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত ভেঙে পড়েছে। অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত পাঠদান না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবই না বুঝেই বাড়ি ফিরছে বলে জানান অভিভাবকরা।
এলাকাবাসীর দাবি, বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা অত্যন্ত দুর্বল। নিজেরাই সঠিকভাবে পড়া ও লেখা জানেন না—এমন অভিযোগ তুলে তারা প্রশ্ন তুলেছেন, “যারা নিজেরাই অদক্ষ, তারা শিক্ষার্থীদের কীভাবে শিক্ষা দেবে?” এই অবস্থায় অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে সন্তানদের ওই বিদ্যালয়ে না পড়িয়ে দূরের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করাচ্ছেন। ফলে শিক্ষার্থীদের সময়, অর্থ ও নিরাপত্তা—সব দিক থেকেই বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৬৬ নং মঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন প্রধান শিক্ষক ইব্রাহিম খলিল, সহকারী শিক্ষিকা শাহিনুর বেগম, সরকারি শিক্ষিকা নিলিফা আক্তার এবং সহকারী শিক্ষিকা আকলিমা আক্তার।
অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের সুযোগ-সুবিধা ভোগ ও নিজ নিজ অবস্থান বজায় রাখার জন্য আদালতে একটি মামলা দায়ের করে রেখেছেন। এর ফলে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বদলি কিংবা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করাও সম্ভব হচ্ছে না বলে অফিস সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মোবাখখারুল ইসলাম মিজান-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,
“অভিযোগের বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। এ ধরনের অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত করা হয়। তদন্তে যদি শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পলি রানী সরকার বলেন,
“শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। কোনো বিদ্যালয়ে পাঠদানে অবহেলার প্রমাণ মিললে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগগুলো যাচাই করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসী দ্রুত এই বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি তদন্ত করে দায়িত্বে অবহেলাকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগের জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিদ্যালয়টির শিক্ষার পরিবেশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।