প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ১০:৫৫ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ৬, ২০২৬, ২:২৩ পি.এম
সোনারগাঁয়ের ২৭নং লাধুরচর গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একাদিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

নারায়ণগঞ্জ, প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ২৭নং লাধুরচর গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক প্রশিক্ষণের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। গত ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ওই প্রশিক্ষণ কর্মশালাকে কেন্দ্র করে এ অভিযোগ সামনে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় কয়েক জন শিক্ষকের অংশগ্রহণে ওই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের সকালে নাস্তা, দুপুরের খাবার, আর বিকেলের নাস্তার জন্য সরকারি তহবিল থেকে মাথাপিছু ৫৪০ টাকা করে দেয়া হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ভ্যাট কেটে নির্দিষ্ট পরিমাণ ৫০৩ টাকা করে অর্থ বরাদ্দ থাকে। তবে অভিযোগ উঠেছে, ওই বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় না করে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, সরকারি বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে এলাকাবাসীর কাছ থেকে ‘ডোনেশন’ নিয়ে।
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষকরা নীরবে চাঁদা আদায়ের মাধ্যমে খাবারের ব্যবস্থা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, সরকারি তহবিল থেকে লাঞ্চের জন্য মাথাপিছু বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও সেই অর্থের কোনো স্বচ্ছ হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। এতে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে সরকারি বরাদ্দের টাকা যাচ্ছে কোথায়?
এলাকাবাসীর দাবি, যদি জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেই খাবারের ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে সরকারি তহবিলের অর্থের হিসাব প্রকাশ করতে হবে এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া জরুরি। এ বিষয় তদন্ত করতে গেলে আরো অনেক দুর্নীতির কথা সামনে আসে গোবিন্দপুর গ্রামের মামুনের মেয়ে ঢাকায় একটি ইস্কুলে পড়াশোনা করলেও ২৭নং লাধুরচর গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় এই ইস্কুলের ছাত্রি সে তাকে ছাত্রি বানিয়ে সরকারি বৃত্তির টাকা আত্মসাৎ এর কাথা উঠে এসেছে। এবং নিজের ইচ্ছে মত ইস্কুলের কমিটি নিয়ন্ত্রণ করে পাশাপাশি ইস্কুলে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনের বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ বিষয় সোনারগাঁ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলাম সরকার, কে অবগত করলে তিনি জানান প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া শিক্ষকদের জন্য সরকারি বরাদ্দ থাকায় ডোনেশন নেয়ার কোন বিধান নেই কেন নেওয়া হলো এ বিষয় তদন্ত করে দেখা হবে।
অন্যদিকে, গোবিন্দপুর গ্রামের মুজিবুর রহমান অভিযোগ করে জানান, অতীতেও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সময় তার কাছ থেকে অর্থ চাওয়া হয়েছে এবং তিনি একাধিকবার অর্থ দিয়েছেন। তবে চলতি বছরের ৪ এপ্রিল আবারও অর্থ চাওয়া হলে তিনি ‘ডোনেশন’-এর নামে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
তিনি বলেন, সরকার যখন শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য খাবারের খরচ দেয়, তখন সেই টাকা কোথায় যাচ্ছে এটা এখন বড় প্রশ্ন।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
www.bangladeshcrime24.com