June 16, 2026, 9:56 pm
শিরোনাম :
পূর্বধলায় প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন ‎নওগাঁর পত্নীতলায় বিজিবির ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ সনদ বিতরণ,, অসুস্থ গরুর মাংস বিক্রির সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিককে মারপিট, মামলায় গ্রেফতার ১ শিবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে চোরাই মোবাইল ও মোটরসাইকেলসহ আটক ১ বেলকুচিতে আর্ত মানবতার সেবায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন, প্রায় : ২ হাজার মানুষের চিকিৎসাসেবা প্রদানের উদ্যোগ– ​প্রেমের টানে বিয়ে করেও অপহরণ ও ধর্ষণের ‘মিথ্যা’ মামলায় যুবক জেলে: সিংড়ায় ক্ষোভ, এমপি আনুর হস্তক্ষেপ কামনা ঠাকুরগাঁওয়ে আত্মহত্যা ও অপমৃত্যু রোধে সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত খাল পুনরুদ্ধার ও রক্ষণাবেক্ষণে চসিকের দুই প্রকল্প, ব্যয় প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা অসুস্থ ৭৬ বছর বয়সী নারীকে আদালতে হাজিরা, মারধরের অভিযোগে এলাকায় উত্তেজনা চট্টগ্রামে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, প্রতিরক্ষা শিল্পে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতির ওপর গুরুত্বারোপ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার অংশ নিয়ে এমপি হলেন ৫ জন

এনামুল হক রাশেদী

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার অংশ নিয়ে এমপি হলেন ৫ জন

 

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

 

চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কয়েকটি আসনে নতুন মুখের জয় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে। প্রথমবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েই পাঁচজন প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজন বিএনপির এবং একজন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী। ভোটারদের মতে, স্থানীয় বাস্তবতা, উন্নয়ন প্রত্যাশা ও প্রার্থীদের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় নিয়েই তারা ভোট দিয়েছেন।

১২ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ শেষ হয়। সন্ধ্যা থেকেই বেসরকারি ফলাফল আসতে শুরু করে। ১৩ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার দুপুরে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

চট্টগ্রাম নগর, উত্তর ও দক্ষিণ—এই তিন অঞ্চল মিলিয়ে মোট ১৬টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১১৫ জন প্রার্থী। বিএনপির ১৬ জন, জামায়াত-সমর্থিত ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের ১৩ জন, এলডিপি, এনসিপি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের একজন করে প্রার্থী ছিলেন। নারী প্রার্থী ছিলেন চারজন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন ১০ জন। মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন।

ফলাফল অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও নগরের আংশিক) আসনে প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. নাসির উদ্দীন পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৫৮৯ ভোট। নির্বাচনের পর তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করায় জনগণের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ এবং সংসদে গিয়ে দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকবেন।

চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর, পাহাড়তলী ও ডবলমুরিং) আসনে প্রথমবার নির্বাচনে নেমে জয়ী হয়েছেন বিএনপির সাঈদ আল নোমান। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৯৭৮ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী পেয়েছেন প্রায় ৭৭ হাজার ভোট। প্রচারের সময় তিনি পরিবেশ রক্ষা, সংস্কৃতি চর্চা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানের কথা তুলে ধরেন, যা নগরের শিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলে।

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে প্রথমবার সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপির হুমাম কাদের চৌধুরী এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৪৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের এ টি এম রেজাউল করিম পেয়েছেন ৪১ হাজার ৭১৯ ভোট।

সবচেয়ে টানটান লড়াই হয়েছে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে। বিএনপির প্রার্থী জসীম উদ্দীন আহমেদ ৭৬ হাজার ৪৯৩ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী ওমর ফারুক পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৪৬৭ ভোট। ব্যবধান মাত্র ১ হাজার ২৬ ভোট। এর আগে তিনি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলেন, তবে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন এবারই প্রথম।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম জয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৯৬০ ভোট। বিএনপির প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পেয়েছেন ৮২ হাজার ২৩৭ ভোট। একই আসনে বিএনপির আরেক নেতা মোহাম্মদ লিয়াকত আলী স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করে পেয়েছেন ৫৫ হাজারের বেশি ভোট। অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলামের এ আসনে বেশ জনপ্রিয়তা ও গ্রহনযোগ্যতা আগে থেকেই ছিল। আওয়ামী আমলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্ধীতা করে তিনি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট বিভাজন না হলে বিএনপি প্রার্থীর হারের ব্যবধান আরো বড় হতে পারত, কারন স্বতন্ত্র প্রার্থী ৩/৪ ইউনিয়নে দাঁড়ি পাল্লার সুইং ভোটারদের বৃহৎ অংশ বড় ধরনের প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে বলে ধারনা করছেন অনেকেই।

এই নির্বাচনে প্রথমবার অংশ নিয়ে জয়ী হওয়া পাঁচজন প্রার্থীর সাফল্য চট্টগ্রামের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা