June 16, 2026, 11:19 am
শিরোনাম :
পূর্বধলায় প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন ‎নওগাঁর পত্নীতলায় বিজিবির ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ সনদ বিতরণ,, অসুস্থ গরুর মাংস বিক্রির সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিককে মারপিট, মামলায় গ্রেফতার ১ শিবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে চোরাই মোবাইল ও মোটরসাইকেলসহ আটক ১ বেলকুচিতে আর্ত মানবতার সেবায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন, প্রায় : ২ হাজার মানুষের চিকিৎসাসেবা প্রদানের উদ্যোগ– ​প্রেমের টানে বিয়ে করেও অপহরণ ও ধর্ষণের ‘মিথ্যা’ মামলায় যুবক জেলে: সিংড়ায় ক্ষোভ, এমপি আনুর হস্তক্ষেপ কামনা ঠাকুরগাঁওয়ে আত্মহত্যা ও অপমৃত্যু রোধে সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত খাল পুনরুদ্ধার ও রক্ষণাবেক্ষণে চসিকের দুই প্রকল্প, ব্যয় প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা অসুস্থ ৭৬ বছর বয়সী নারীকে আদালতে হাজিরা, মারধরের অভিযোগে এলাকায় উত্তেজনা চট্টগ্রামে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, প্রতিরক্ষা শিল্পে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতির ওপর গুরুত্বারোপ

হিজলায় ডিসির ‘নীরব সায়’ ও যোগসাজশে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন: মেঘনায় বিলীন হচ্ছে জনপদ

সাইফুল ইসলাম

হিজলায় ডিসির ‘নীরব সায়’ ও যোগসাজশে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন: মেঘনায় বিলীন হচ্ছে জনপদ।।

 

স্টাফ রিপোর্টার

সাইফুল ইসলাম

 

বরিশালের হিজলা উপজেলার সাউড়া সৈয়দখালী এলাকায় মেঘনা নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে দেদারসে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। স্থানীয় জেলা প্রশাসনের (ডিসি) রহস্যজনক নীরবতা এবং পরোক্ষ যোগসাজশের কারণে এই ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে আজ (মঙ্গলবার) সকালে হিজলা উপজেলার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

প্রশাসনের মদতে নদী ভাঙন?

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বারবার মৌখিক ও লিখিতভাবে বালু উত্তোলনের ভয়াবহতা জানানো হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বরং ড্রেজার সিন্ডিকেটগুলো প্রশাসনের ‘সবুজ সংকেত’ পেয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বালু খেকোদের সাথে প্রশাসনের শীর্ষ মহলের অলিখিত আর্থিক লেনদেন বা যোগসাজশ থাকায় কোনো কার্যকর মোবাইল কোর্ট বা অভিযান পরিচালিত হচ্ছে না।

মানচিত্র হারানোর শঙ্কায় হিজলা

বিক্ষোভকারীরা তাদের ব্যানারে স্পষ্ট করে তুলে ধরেন যে, সাউড়া সৈয়দখালী এলাকায় ড্রেজার দিয়ে বালু তোলার ফলে মেঘনার ভাঙন তীব্রতর হয়েছে। ভাঙনে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে। ব্যানারে সরাসরি দাবি জানানো হয়েছে— “রাক্ষুসে মেঘনার ভাঙন থেকে হিজলা উপজেলাকে বাঁচান, হিজলা উপজেলার মানচিত্র রক্ষা করুন।”

বক্তাদের কড়া হুঁশিয়ারি

মানববন্ধনে উপস্থিত স্থানীয় নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রশাসন আমাদের রক্ষাকর্তা হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে তারা বালু খেকোদের পাহারাদার। ডিসি অফিস থেকে বালু উত্তোলনের এই মরণঘাতী খেলায় সায় দেওয়া হচ্ছে। যদি অতি দ্রুত এই ড্রেজার বন্ধ না করা হয়, তবে হিজলার সর্বস্তরের জনগণ ডিসি অফিস ঘেরাওসহ আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।”

জনদুর্ভোগ ও প্রশাসনের ভূমিকা

সরেজমিনে দেখা গেছে, শত শত মানুষ দীর্ঘক্ষণ রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে মানববন্ধনে অংশ নেন। সাধারণ মানুষের মাঝে প্রশাসনের প্রতি চরম অনাস্থা লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয়দের মতে, যেখানে সরকারি আইন অনুযায়ী নদী থেকে বালু তোলা নিষিদ্ধ, সেখানে জেলা প্রশাসনের চোখের সামনে ড্রেজার চলছে কীভাবে? এটি স্পষ্টত যোগসাজশেরই প্রমাণ।

প্রতিবেদনটি শেষ করার সময় আন্দোলনকারীরা প্রশাসনের প্রতি শেষবারের মতো আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, “আমরা রক্ত দিয়ে হলেও আমাদের ভূমি ও নদী রক্ষা করব। ডিসি সাহেবকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তিনি কি জনগণের পাশে থাকবেন, নাকি বালু খেকো সিন্ডিকেটের পক্ষে?”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা