শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনীতিমুক্ত করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ডেপুটি স্পিকারের
Reporter Name
- Update Time :
Wednesday, April 1, 2026
/
-
55 Time View
/
-

আল আমিন হাওলাদার স্টাফ রিপোর্টার
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য Barrister Kayser Kamal। তার এই সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যেই স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশংসা কুড়িয়েছে।
ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে চান, তবে তাকে অবশ্যই তার রাজনৈতিক দলের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হবে। অর্থাৎ, সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কেউ চাইলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব নিতে পারবেন, তবে সেক্ষেত্রে তাকে আগে দলীয় পদ ত্যাগ করে নিরপেক্ষ অবস্থানে আসতে হবে।
এই সিদ্ধান্ত প্রাথমিকভাবে Kalmakanda Upazila ও Durgapur Upazila উপজেলার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রযোজ্য করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ দুই উপজেলায় বর্তমানে ৬টি বেসরকারি কলেজ, ৬টি কারিগরি কলেজ, ৫৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ১৫টি মাদ্রাসা রয়েছে। এর মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানই দীর্ঘদিন ধরে অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে, যেখানে কমিটির নেতৃত্ব নির্ধারণে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ ছিল।
শিক্ষাঙ্গনকে দলীয়করণের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ডেপুটি স্পিকার চান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় এমন ব্যক্তিরা দায়িত্ব পালন করুন, যারা অভিজ্ঞ, শিক্ষিত এবং সর্বোপরি নিরপেক্ষ। বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, শিক্ষাবিদ ও সমাজের সম্মানিত ব্যক্তিদের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হলে শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে এই নীতির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে করে স্থানীয় পর্যায়ে একটি ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও একই ধরনের পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক, অভিভাবক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেছেন। “দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাব একটি বড় সমস্যা ছিল। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে শিক্ষাঙ্গনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং শিক্ষার মান উন্নত হবে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির আহ্বায়ক বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে একটি বিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত আছি এবং একইসঙ্গে একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও সম্পৃক্ত। আমাদের নেতা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন—রাজনৈতিক পদে থেকে কেউ সভাপতি হতে পারবেন না। আমি রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে চাই, তাই সভাপতির দায়িত্ব না নিলেও এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।”
শিক্ষাবিদদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং একাডেমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুস্থ ও রাজনীতিমুক্ত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে ডেপুটি স্পিকার Barrister Kayser Kamal বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনোভাবেই রাজনৈতিক প্রভাবের জায়গা হতে পারে না। আমরা চাই শিক্ষার মান উন্নত হোক এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হোক। যোগ্য, অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেউ যদি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকেন, তিনি রাজনীতি করবেন—কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব নিতে হলে তাকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে।”
তিনি আরও জানান, এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও এ ধরনের নীতি প্রয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এই উদ্যোগ নেত্রকোনা জেলাকে শিক্ষাক্ষেত্রে একটি নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে এবং সারা দেশের জন্য একটি অনুসরণযোগ্য মডেল হয়ে উঠতে
আরও সংবাদ