চট্টগ্রামের দুটি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী ৩ প্রার্থী,
সমীকরনে এগিয়ে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী
এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের দুটি আসনে শেষ পর্যন্ত বিএনপির দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে তিনজন বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী মাঠে ভোট যুদ্ধে রয়ে গেলেন। এতে করে সংশ্লিষ্ট আসন দুটিতে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে বিএনপি পড়েছে চ্যালেঞ্জের মুখে, পাশাপাশি সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হয়ে উঠছেন জামায়াত নেতৃত্বের ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীরা।
এর মধ্যে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার আংশিক) আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে দুজন বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অপরদিকে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে রয়েছেন একজন বিদ্রোহী প্রার্থী।
বুধবার (২১ জানুয়ারী) সকালে এই দুই আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেন।
চট্টগ্রাম-১৪ আসনে চূড়ান্ত আট প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জসীম উদ্দীন আহমেদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিএনপির বিদ্রোহী হিসেবে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মিজানুল হক চৌধুরী ফুটবল প্রতীক এবং দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনের অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন— এলডিপির ওমর ফারুক (ছাতা), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. সোলাইমান (মোমবাতি), জাতীয় পার্টির বাদশা মিয়া (লাঙল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ আবদুল হামিদ (হাতপাখা) এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের এইচ এম ইলিয়াছ (আপেল)।
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী রয়েছেন সাতজন। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তাঁর বিপরীতে বিএনপির বিদ্রোহী হিসেবে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. লেয়াকত আলী ফুটবল প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন। এ আসনের অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন— জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের আবদুল মালেক (চেয়ার), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এহছানুল হক (হারিকেন), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ রুহুল্লাহ (হাতপাখা) এবং গণ অধিকার পরিষদের মো. আরিফুল হক (ট্রাক)।
চট্টগ্রাম-১৬ আসনে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা জয়েন সেক্রেটারী অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলামের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। আওয়ামী শাসনের প্রতিকুল পরিস্থিতিতেও মাওলানা জহিরুল ইসলাম বাঁশখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচন করে জয়ী হয়ে তার শক্ত অবস্থান জানান দিয়েছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থীর পাশাপাশি বিএনপির শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় জামায়াতের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মাওলানা জহিরুল ইসলামের বিজয়ের পথ বেশ সুগম হয়েছে বলা চলে।
নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১১ জন। মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ১৪৩ জন প্রার্থী। যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়েন ৪২ জন। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনে আপিল ও আদালতের রায়ে ২২ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পান। গত মঙ্গলবার ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন, এদিন বিভিন্ন দলের ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন।
বৈধ ও চূড়ান্ত প্রার্থিতার তালিকা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে দুটিতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। এছাড়া জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১০-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন তিনটি আসনে। বিএনপির এক প্রার্থীর প্রার্থিতা নির্বাচন কমিশনে বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত দুটি আসনে প্রার্থী দেয়নি।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।