অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি।
অন্তর মিয়া
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
অবৈধ বালু উত্তোলন ও বালু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় এক সাংবাদিককে হত্যার হুমকি ও হামলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বাদী জয়নাল আবেদীন বাদশা (২৮), তিনি জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার-এর মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি। তিনি শ্রীমঙ্গল উপজেলার দুর্গানগর গ্রামের মৃত আব্দুল শহিদের পুত্র।
মামলায় গোলগাঁও গ্রামের ফারুক মিয়া (৪০)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জানুয়ারি সকাল আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে দুর্গানগর শান্তিবাজার এলাকায় মোটরসাইকেলযোগে যাওয়ার পথে অভিযুক্তরা বাদীর পথরোধ করে। এ সময় তারা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। এক পর্যায়ে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নেওয়া হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা তাকে হুমকি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কোনো সংবাদ প্রকাশ করলে তাকে হত্যা করা হবে। পরে তারা মারধরের চেষ্টা করলে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এসে সাংবাদিককে উদ্ধার করেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, সম্প্রতি তিনি এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন ও বালু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এসব প্রতিবেদনে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দিতে হামলার চেষ্টা চালায়।
তিনি বলেন, “আমি ও আমার পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। যেকোনো সময় আমাকে প্রাণে হত্যার আশঙ্কা রয়েছে।”
মামলায় দুর্গানগর গ্রামের মো. তৈফিক মিয়া ও মো. নুর উদ্দিনকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত অবৈধ বালু ব্যবসায়ী ফারুক মিয়ার সঙ্গে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগী সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।