গঙ্গাচড়ায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার ‘ভুয়া’ তদন্ত প্রতিবেদন: সেচ মালিক ও কৃষকদের ক্ষোভ
মোঃ মেহেদী হাসান,
স্টাফ রিপোর্টার
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নে সেচ সংযোগ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভুয়া তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার দক্ষিণ পানাপুকুর এলাকায় বিএডিসি অনুমোদিত সেচ সীমানার ভেতরে আইন বহির্ভূতভাবে বিএমডিএ (বরেন্দ্র)-এর পাইপ লাইন সম্প্রসারণ ও ভিত্তিহীন প্রতিবেদনের কারণে হতাশায় পড়েছেন বৈধ সেচ মালিক ও প্রকৃত কৃষকরা।
জানা যায়, দক্ষিণ পানাপুকুর এলাকায় বাচ্চা মিয়াসহ চারজন বিএডিসি অনুমোদিত সেচ মালিক দীর্ঘদিন ধরে কৃষকদের পানি সরবরাহ করে আসছেন। সম্প্রতি ওই এলাকায় অবৈধভাবে বিএমডিএ-এর পাইপ লাইন সম্প্রসারণ করা হলে সেচ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
তদন্ত সাপেক্ষে গত ১৬ জানুয়ারি (২০২৬) বিএডিসি ও বিএমডিএ-এর কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে নতুন আউটলেট বন্ধের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সময় বিএডিসি সেচ মালিক বাচ্চা মিয়া কৃষকদের ন্যায্যমূল্যে পানি সরবরাহের লিখিত অঙ্গীকারনামাও প্রদান করেন।
অভিযোগ উঠেছে, সেচ কমিটির এই সিদ্ধান্ত বানচাল করতে গত ১৮ জানুয়ারি একটি স্বার্থান্বেষী মহল ‘কৃত্রিম সংকট’ দেখিয়ে ইউএনও বরাবর পুনরায় অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগকারীরা প্রকৃত কৃষক কিনা—তা যাচাইয়ের জন্য উপজেলা কৃষি অফিসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু বড়বিল ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জীবন নাহার সরেজমিনে সঠিক যাচাই না করেই একটি প্রতিবেদন জমা দেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, তদন্ত প্রতিবেদনে বিএমডিএ আউটলেট সংলগ্ন ২২ জন কৃষকের সেচ চাহিদার কথা উল্লেখ করা হলেও বাস্তবে ওই বিএডিসি সেচ এলাকায় তাদের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে পানির অভাবে ফসল নষ্টের আশঙ্কার কথা বলা হলেও মাঠে ফসল নষ্টের কোনো আলামত মেলেনি। বরং অধিকাংশ প্রকৃত কৃষক বর্তমান বিএডিসি সেচ ব্যবস্থা নিয়েই সন্তুষ্ট।
বিএডিসি সেচ এলাকার কৃষক মোজাম্মেল হোসেন ও ফিরোজ মিয়া জানান, তারা সরকারি মূল্যে পানি চান। বর্তমান মালিক বাচ্চা মিয়া ন্যায্যমূল্যে পানি দিলে তাদের কোনো আপত্তি নেই। আরেক কৃষক বেলাল হোসেন ও মুসকুর বলেন, “আমরা শুরু থেকেই বাচ্চা মিয়ার স্কিম থেকে পানি নিচ্ছি। আমাদের কোনো সমস্যা নেই। মাত্র কয়েকজন ব্যক্তির স্বার্থে জোর করে বরেন্দ্রর পাইপ বসানো হয়েছে, যার কোনো প্রয়োজন নেই।”
বিএডিসি সেচ মালিক বাচ্চা মিয়া বলেন, “আমি আমার ক্যাচমেন্ট এলাকার সব কৃষককে পানি দিতে প্রস্তুত। কিন্তু কেউ যদি ব্যক্তিগত আক্রোশে পানি না নেয়, তবে তো আমি জোর করতে পারি না।” অপর সেচ মালিক সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, “আমাদের চারটি মোটর থাকা সত্ত্বেও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেন পাইপ লাইন ঢোকানো হলো, তা বোধগম্য নয়।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জীবন নাহারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হুসেন বলেন, “আমাদের দায়িত্ব ছিল অভিযোগকারীরা কৃষক কিনা তা যাচাই করা। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা যে প্রতিবেদন দিয়েছেন, আমি তা ইউএনও মহোদয়ের কাছে জমা দিয়েছি।”
এদিকে, ঠাকুড়াদহ এলাকার এই সেচ জটিলতা নিরসনে তদন্তে গড়িমসি ও বাস্তবতা বিবর্জিত প্রতিবেদনের ফলে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা মনে করছেন, বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধানের জন্য উচ্চতর তদন্ত প্রয়োজন