June 16, 2026, 8:29 pm
শিরোনাম :
পূর্বধলায় প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন ‎নওগাঁর পত্নীতলায় বিজিবির ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ সনদ বিতরণ,, অসুস্থ গরুর মাংস বিক্রির সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিককে মারপিট, মামলায় গ্রেফতার ১ শিবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে চোরাই মোবাইল ও মোটরসাইকেলসহ আটক ১ বেলকুচিতে আর্ত মানবতার সেবায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন, প্রায় : ২ হাজার মানুষের চিকিৎসাসেবা প্রদানের উদ্যোগ– ​প্রেমের টানে বিয়ে করেও অপহরণ ও ধর্ষণের ‘মিথ্যা’ মামলায় যুবক জেলে: সিংড়ায় ক্ষোভ, এমপি আনুর হস্তক্ষেপ কামনা ঠাকুরগাঁওয়ে আত্মহত্যা ও অপমৃত্যু রোধে সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত খাল পুনরুদ্ধার ও রক্ষণাবেক্ষণে চসিকের দুই প্রকল্প, ব্যয় প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা অসুস্থ ৭৬ বছর বয়সী নারীকে আদালতে হাজিরা, মারধরের অভিযোগে এলাকায় উত্তেজনা চট্টগ্রামে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, প্রতিরক্ষা শিল্পে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতির ওপর গুরুত্বারোপ

চট্টগ্রামে ১১৫ প্রার্থীর মধ্যে ৫৯ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

এনামুল হক রাশেদী

চট্টগ্রামে ১১৫ প্রার্থীর মধ্যে ৫৯ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

 

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

 

চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ফলাফল ঘোষিত ১৪টি আসনে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ বিভিন্ন দলের মোট ৫৯ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ১১৫ জন। এর মধ্যে ফলাফল ঘোষিত ১৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ৯৮ জন প্রার্থী। তাদের প্রায় ৬০ শতাংশই জামানত হারিয়েছেন।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসাইন জানান, গণ প্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪১(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো প্রার্থী মোট প্রদত্ত ভোটের এক অষ্টমাংশ ভোট না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সে অনুযায়ী এবারের নির্বাচনে চট্টগ্রামের বহু প্রার্থীর জামানত সরকারি কোষাগারে জমা হবে।

শুক্রবার চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ১৪টি আসনের পূর্ণাঙ্গ ফল ঘোষণা করা হয়। উচ্চ আদালতের নির্দেশে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) ও চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও নগরীর ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ড) আসনের ফল ঘোষণা করা হয়নি। এ দুই আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-২ আসনে ৮ জন এবং চট্টগ্রাম-৪ আসনে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

আসনভিত্তিক চিত্র

চট্টগ্রাম-১ (মিরাসরাই):

মোট ভোট ২,২৪,১২০। জামানত ফেরতের জন্য প্রয়োজন ছিল কমপক্ষে ২৮,০১৫ ভোট। বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী নুরুল আমিন ও জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান ছাড়া পাঁচ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

চট্টগ্রাম-৩:

মোট ভোট ১,২০,৯৩৪। জামানত ফেরতের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৫,১১৬ ভোট। বিজয়ী মোস্তফা কামাল পাশা ও জামায়াত প্রার্থী মুহাম্মদ আলাউদ্দীন ছাড়া দুই প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

চট্টগ্রাম-৫:

মোট ভোট ২,১৮,৬১৬। জামানত ফেরতের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৭,৩২৭ ভোট। বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন ও খেলাফত মজলিসের মো. নাসির উদ্দীন ছাড়া চার প্রার্থীর জামানত বাতিল হয়েছে।

চট্টগ্রাম-৬:

মোট ভোট ১,৬৬,৭৭১। জামানত ফেরতের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০,৮৪৬ ভোট। চার প্রার্থীর মধ্যে তিনজন এ সীমা অতিক্রম করায় একজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

চট্টগ্রাম-৭:

মোট ভোট ১,৭৯,৫৮৬। জামানত ফেরতের জন্য প্রয়োজন ছিল ২২,৪৪৮ ভোট। বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরী, জামায়াতের এটিএম রেজাউল করিম ও ইসলামী ফ্রন্টের মুহাম্মদ ইকবাল হাছান ছাড়া পাঁচ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

চট্টগ্রাম-৮:

মোট ভোট ২,৬০,৯৫৮। জামানত ফেরতের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩২,৬১৯ ভোট। বিএনপির এরশাদ উল্লাহ, জামায়াতের আবু নাছের ও ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান ছাড়া তিন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এনসিপি প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ পেয়েছেন মাত্র ৩,৩৪৯ ভোট।

চট্টগ্রাম-৯:

মোট ভোট ১,৭৪,৯৪৪। জামানত ফেরতের জন্য প্রয়োজন ছিল ২১,৮৬৮ ভোট। ১০ প্রার্থীর মধ্যে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী আবু সুফিয়ান ও জামায়াতের একেএম ফজলুল হক ছাড়া আট প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

চট্টগ্রাম-১০:

মোট ভোট ২,১৪,১৫৪। জামানত ফেরতের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৬,৭৬৯ ভোট। বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী সাঈদ আল নোমান ও জামায়াতের শামসুজ্জামন হেলালী ছাড়া সাত প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

চট্টগ্রাম-১১:

মোট ভোট ২,৬৬,০৮২। জামানত ফেরতের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৫,৮৩৫ ভোট। জয়ী বিএনপি প্রার্থী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও জামায়াতের মোহাম্মদ শফিউল আলম ছাড়া নয় প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

চট্টগ্রাম-১২:

মোট ভোট ১,৯৩,৪৯৩। জামানত ফেরতের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৪,১৮৬ ভোট। বিএনপি প্রার্থী এনামুল হক জয়ী হন। জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ ফরিদুল আলম পেয়েছেন ২১,৭০৬ ভোট। তিনিসহ মোট ছয় প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

চট্টগ্রাম-১৩:

মোট ভোট ২,২১,০৩৫। জামানত ফেরতের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৭,৬২৯ ভোট। বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজাম, জামায়াতের মাহমুদুল হাসান ও ইসলামী ফ্রন্টের এসএম শাহাজাহান ছাড়া চার প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

চট্টগ্রাম-১৪:

মোট ভোট ১,৮৬,২৯০। জামানত ফেরতের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৩,২৮৬ ভোট। বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী জসীম উদ্দিন ও এলডিপির ওমর ফারুক ছাড়া ছয় প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

চট্টগ্রাম-১৫:

মোট ভোট ৩,২০,৫১১। জামানত ফেরতের জন্য প্রয়োজন ছিল ৪০ হাজারের বেশি ভোট। জামায়াতের শাহজাহান চৌধুরী জয়ী হন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শরীফুল আলম চৌধুরীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

চট্টগ্রাম-১৬:

মোট ভোট ২,৪১,৭২৪। জামানত ফেরতের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩০,২১৫ ভোট। বিজয়ী জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, বিএনপি প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম ও বিদ্রোহী প্রার্থী লেয়াকত আলী ছাড়া চার প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা