বগুড়ায় প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে উধাও সমিতির কর্মকর্তারা বিরুদ্ধে সাতমাথায় গ্রাহকদের মানববন্ধন।
মো: শামছুল আলম লিটন ব্যুরো চীফ উত্তরবঙ্গ:বগুড়ায় অগ্রসর যুব উন্নয়ন সংস্থা নামে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। লোভনীয় লাভের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধারসহ কর্মকর্তারা আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
টাকা ফেরত না পেয়ে আজ বৃহস্পতিবার বগুড়া শহরের সাতমাথায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন শত শত গ্রাহক। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগীরা দ্রুত তাদের জমাকৃত টাকা ফেরত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
জানা গেছে, শিবগঞ্জ উপজেলার বিহারহাট দক্ষিণপাড়া এলাকার আব্দুল বারীর ছেলে মো. আশিকুর রহমান প্রায় ৮ থেকে ১০ বছর আগে বগুড়া শহরের কালীতলা বিগবাজার এলাকায় অগ্রসর যুব উন্নয়ন সংস্থা” নামে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। পরে বিভিন্ন মেয়াদি সঞ্চয়, ডিপোজিট ও এফডিআর স্কিম চালু করে গ্রাহকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা সংগ্রহ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, উচ্চ মুনাফার আশায় অনেক গ্রাহক, বিশেষ করে নারী গ্রাহকরা, এই প্রতিষ্ঠানে তাদের সঞ্চয় জমা রাখেন।
ভুক্তভোগী সাবিনা আহম্মেদ জানান, তিনি এক বছর মেয়াদি দুটি এফডিআরে মোট ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা জমা রাখেন। মেয়াদ শেষে টাকা তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ তা দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং পরে টাকা জমার বিষয়টিও অস্বীকার করে।
এ বিষয়ে জানাজানি হলে অন্যান্য গ্রাহকরাও টাকা ফেরতের দাবিতে প্রতিষ্ঠানে ভিড় করেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে।
গত রোববার শত শত গ্রাহক একত্রিত হয়ে কার্যালয়ে গিয়ে টাকা ফেরতের দাবি জানান। এ সময় অফিসে তালা লাগিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। তবে অন্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন তৌফিক হাসান (৩৩), রেজাউল করিম (৫০) ও রিতু জাহান (২৯)।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাবিনা আহম্মেদ বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় প্রধান অভিযুক্ত আশিকুর রহমানসহ আটজনের নাম উল্লেখ এবং আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
এ ছাড়া মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন সুমনা আক্তার, রোজিনা বেগম, মো. রাহাত, মো. জাহিদুলসহ কয়েকজন।
এর আগে গত সোমবার কাটনারপাড়া শিববাটি বিগবাজার এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির সামনে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন গ্রাহকরা।
আজকের মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, অধিকাংশ গ্রাহক নারী হওয়ায় সহজেই তাদের ভুল বুঝিয়ে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে অনেক পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।
বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, এ ঘটনায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
ভুক্তভোগীরা দ্রুত তদন্ত শেষ করে তাদের জমাকৃত অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।