মৃত সন্তান দেখা করতে গেলো জীবিত পিতার সাথে নিথর দেহ কোলে নিয়ে প্রথম ও শেষ আদর করলো পিতা
নাছিম মৃধা,স্টাফ রিপোর্টার (বাগেরহাট)
বাগেরহাটে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় গোটা দেশ শোকে স্তব্ধ। বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন জুয়েলের স্ত্রী নিজের জীবন শেষ করার আগে মাত্র ৯ মাস বয়সী শিশুসন্তানকে হত্যা করেছেন। নির্মম এই ঘটনার পর কারাগারে থাকা পিতার সঙ্গে সন্তানের শেষ ‘দেখা’—লাশবাহী গাড়িতে—দেশবাসীর চোখে পানি এনে দিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক ও মানসিক চাপে ভেঙে পড়ে ওই নারী প্রথমে তার ৯ মাস বয়সী শিশুসন্তানকে হত্যা করেন। পরে নিজেও আত্মহত্যা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেয়।
এ ঘটনায় সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিক হলো—শিশুটির পিতা সাদ্দাম হোসেন জুয়েল বর্তমানে একটি মামলায় যশোর জেলা কারাগারে বন্দি থাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়নি। ফলে শেষবারের মতো স্বামী ও পিতার সামনে স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ নেওয়া হয় লাশবাহী গাড়িতে করেই যশোর জেলা কারাগারে।
কারাগারের ভেতরে ঘটে যাওয়া সেই দৃশ্য ছিল ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। জীবিত পিতা দাঁড়িয়ে দেখছেন তার স্ত্রী ও সন্তানের নিথর দেহ—যাদের আর কখনো ডাকতে পারবেন না ‘আমার মানুষ’ বলে। উপস্থিত কারা কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য এমনকি প্রত্যক্ষদর্শীরাও আবেগ ধরে রাখতে পারেননি।
এ হৃদয়বিদারক ঘটনায় বাগেরহাটসহ সারাদেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য মানুষ গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অনেকেই বলছেন, এটি কেবল একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডি নয়—এটি সমাজ, মানসিক স্বাস্থ্য ও পারিবারিক সহায়তার অভাবের ভয়াবহ প্রতিফলন।
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আত্মহত্যার পেছনের প্রকৃত কারণ এবং পারিবারিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একটি শিশুর জীবনের এমন করুণ পরিণতি, একজন মায়ের আত্মহনন এবং একজন পিতার কারাগারের ভেতর থেকে প্রিয়জনদের শেষ দেখা—এই ঘটনা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এক ভয়াবহ মানবিক ট্র্যাজেডি হয়ে থাকবে।