রাজাবাড়ী বাজার ইজারা: ৪০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তদন্তের দাবি
Reporter Name
- Update Time :
Wednesday, March 25, 2026
/
-
133 Time View
/
-

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী সরকারি বাজার ইজারা প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের একটি অংশ সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বাজারটির সরকারি নির্ধারিত ইজারা মূল্য ছিল প্রায় ৪১ লাখ টাকা। তবে দরপত্র প্রক্রিয়ায় ৯৩ লাখ টাকায় ইজারা চূড়ান্ত দেখানো হয়। এ বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে যে, নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত অর্থের একটি অংশ—প্রায় ৪০ লাখ টাকা—ইজারাদারের কাছ থেকে আলাদাভাবে নেওয়া হয়েছে। যদিও এ অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, মোট ১৪ জন সিডিউল ক্রয় করলেও সবাইকে দরপত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ইজারা দেওয়ার কথা থাকলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে সীমিত উপস্থিতিতে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ৫ মার্চ ইজারা কার্যক্রম শেষে ইজারাদার শিমু সরকারের কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকার একটি চেক গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে বাজার ইজারা কমিটির আহ্বায়ক শাহনূর সরকারের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, পরবর্তীতে ওই অর্থ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাজার ইজারা কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে শাহনূর সরকার এবং সদস্য সচিব হিসেবে মহিদুল ইসলাম নয়ন দায়িত্বে ছিলেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা আওলাদ কাজী বলেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি অনিয়মে জড়িত থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, বিষয়টি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট হওয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের আশঙ্কা, উচ্চ মূল্যে ইজারা নেওয়ার ফলে বাজারে খাজনা বৃদ্ধি পেতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামে প্রভাব ফেলতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাজার পরিচালনায় বছরে প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয় হয় এবং আয় ১ কোটি ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। এ অবস্থায় অতিরিক্ত অর্থে ইজারা নেওয়ার চাপ অর্থনৈতিকভাবে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, বিষয়টি সাধারণ মানুষের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার সজীব আহমেদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমেও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠেছে।
উল্লেখ্য, ইজারা কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
আরও সংবাদ