গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বেসরকারি স্কুলে মনগড়া ফি আদায়
গাইবান্ধা থেকে মোঃ আবু জাফর মন্ডলঃ
গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বেসরকারি স্কুলে মনগড়া ফি বৃদ্ধিতে অর্থ আদায় করায় দিশেহারা অভিভাবকগন
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে (কিন্ডারগার্টেন ও নন-এমপিও স্কুল) অস্বাভাবিক হারে ফি বৃদ্ধি পেয়েছে।সেই সাথে টিউশন ফিসহ অন্যান্য শিক্ষা ব্যয়। বছরের শুরুতেই ভর্তি ফি, সেশন চার্জ এবং মাসিক বেতনের এই বাড়তি চাপ সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মধ্যবিত্ত আয়ের অভিভাবকরা। এব্যাপারে সরেজমিনে তদন্ত ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার সদরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ গড়ে ওঠা বেসরকারি স্কুলগুলো সরকারি কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই তাদের নিজেদের ইচ্ছামতো ফি নির্ধারণ করে আসছে। বিগত বছরের তুলনায় এ বছরে অনেক প্রতিষ্ঠানে এস এসসি পরিক্ষার্থীদের ফরম পুরনে ২৫০০ শত বেসরকারি স্কুলে ভর্তি ও সেশন ফি বাবদ ৫০০ থেকে ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে। এছাড়াও মাসিক টিউশন ফি-ও বাড়ানো হয়েছে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত।
অভিভাবকদের অভিযোগ, কেবল বেতন বা ভর্তি ফি নয়, স্কুলগুলো থেকে নির্দিষ্ট লাইব্রেরি বা দোকান থেকে চড়া দামে ডায়েরি, সিলেবাস, খাতা ও ইউনিফর্ম কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি বইয়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত ৪-৫টি বই পাঠ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা শিশুদের ওপর যেমন মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে, তেমনি অভিভাবকদের পকেট কাটছে।
এই অভিযোগ বেশি উঠেছে পলাশবাড়ীর গ্রীনফিল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজসহ আরও বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
পলাশবাড়ী শহরের একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জিনিসপত্রের দাম যে হারে বাড়ছে, তাতে সংসার চালানোই কঠিন। তার ওপর হুট করে স্কুলের বেতন আর সেশন ফি দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় আমরা এখন দিশেহারা। সন্তানদের পড়ালেখা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এদিকে স্কুল কর্তৃপক্ষগুলোর দাবি, বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে ভবন ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল এবং শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি করতে হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের মান ধরে রাখতেই ব্যয়ের সাথে সমন্বয় করে ফি বাড়ানো হয়েছে বলে তারা জানান।
তবে সচেতন মহলের মতে, সরকারি কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বা তদারকি না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠান এক প্রকার ‘শিক্ষা ব্যবসায়’ মেতে উঠেছে। উপজেলার অনেক বেসরকারি স্কুল মানসম্মত শিক্ষক ছাড়াই উচ্চহারে ফি আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় অভিভাবকরা উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফি নির্ধারণে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন। যাতে করে মধ্যবিত্ব ছাত্র/ ছাত্রীদের পরিবারের পক্ষে সহজসাধ্য হয়ে উঠে।