১৮ বছরের আগে বিয়ে নয়, পড়াশোনা চালানোর নির্দেশ
মোঃ আজগার আলী, জেলা প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরায় এক নবম শ্রেণির ছাত্রীকে বাল্যবিবাহের অভিশাপ থেকে রক্ষা করেছে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহ। সাতক্ষীরা পৌর এলাকার নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ওই শিক্ষার্থীর বাল্যবিবাহ গোপনে সম্পন্ন হলেও সময়মতো প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা বন্ধ করা হয়েছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে বাল্যবিবাহটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। পাশাপাশি মেয়েটির ভবিষ্যৎ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক নির্দেশনা জারি করা হয়।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিশু সুরক্ষা কর্মকর্তা বাসিয়ার রহমান জানান, কয়েকদিন আগে গোপনে বাল্যবিবাহ সম্পন্ন হওয়ার তথ্য পান তারা। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা কনের বাড়িতে গিয়ে নোটিশ প্রদান করেন এবং পরিবারের সদস্যদের ডেকে প্রশাসনের সামনে হাজির করা হয়।
জেলা মহিলা বিষয়ক উপ-পরিচালক নাজমুল নাহার বলেন, অভিযুক্ত পরিবার তাদের ভুল স্বীকার করেছে এবং ভবিষ্যতে আর এমন কাজ না করার অঙ্গীকার করেছে। এ সময় ছাত্রীটির দাদি, বাবা ও মামার উপস্থিতিতে তার মা ফাতেমা খাতুন লিখিত মুচলেকা দেন। তিনি আরও জানান, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না এবং এ ধরনের অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সাকিবুর রহমান বাবলা জানান, সাতক্ষীরা পৌর এলাকার নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ১৫ বছর বয়সী ওই ছাত্রীকে গোপনে শহরের কামালনগর এলাকার আজিজুল হক বাবু গার্মেন্ট সুপারভাইজারের ২২ বছর বয়সী ছেলে সাব্বির হোসেনের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। এ বিয়ের জন্য পার্শ্ববর্তী সদর উপজেলার ৯নং ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের এক মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধকের সিল ও স্বাক্ষরযুক্ত রেজিস্ট্রেশন কাগজও পাওয়া যায়।
সর্বশেষ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মেয়েটির ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাকে বিয়ে না দেওয়ার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার পড়ালেখা নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সময়মতো প্রশাসনের হস্তক্ষেপ না হলে একটি মেয়ের জীবন ও শিক্ষাজীবন চরম ঝুঁকিতে পড়তে পারত। তারা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানান।