June 24, 2026, 4:53 pm
শিরোনাম :
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন আগের ভিডিও পোস্ট করে চবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বাইক শোডাউনের প্রচারনা আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা প্রতিহতে চট্টগ্রামের ২৮ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের অবস্থান কর্মসূচি ধামইরহাটে স্বপ্ন স্বারথী কিশোরীদের মাঝে উন্নতমানের মুরগীর বাচ্চা বিতরণ “ ধামরাইয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে হামলা,আহত ২ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল উপজেলায় শাহবাজপুরে নিরপরাধ ব্যক্তিদের গ্রে*ফ*তা*রে*র অ’ভি’যো’গ, এলাকাবাসীর ক্ষো*ভ। স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতন ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় গৃহবধূর লিখিত আবেদন শারজাহ আমিরাত জুড়ে ড্রোন খাত নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি নতুন আইন চালু করেছে। বিজয়নগরে গাঁজাসহ ০২ মাদক কারবারী গ্রেফতার: চমেক অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের হামলার ঘটনায় মামলা, আসামি অজ্ঞাতনামা!

চাঁপাইনবাবগঞ্জ তিন আসনে আওয়ামী লীগের ভোট টানতে বিএনপি-জামায়াতের কাড়াকাড়ি হয়রানি করলে থানা ঘেরাওয়ের হুমকি হারুনুর রশিদের 

নিজস্ব প্রতিনিধি

স্টাফ রিপোর্টার

 

আওয়ামী লীগের ভোট টানতে বিএনপি-জামায়াতের কাড়াকাড়ি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট টানতে বিএনপি-জামায়াতের নেতাদের মধ্যে রীতিমতো কাড়াকাড়ি শুরু হয়েছে। তারা রাখঢাক না করেই এসব বক্তব্য দিচ্ছেন সভা-সমাবেশে।

 

 

সভা-সমাবেশগুলোতে বিএনপি-জামায়াত উভয় দলের নেতারা আওয়ামী লীগ সমর্থকদের প্রকাশ্যে বলছেন, আপনারা নির্ভয়ে আমাদের সঙ্গে আসুন। আপনাদের সব দায়দায়িত্ব আমাদের। আমরা আপনাদের সার্বিক নিরাপত্তা দেব। আপনাদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলা-মোকদ্দমা আমরাই দেখব। পুলিশ হয়রানি করলে আমরা ব্যবস্থা নেব।

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য লতিফুর রহমানের দেওয়া এমন একাধিক বক্তব্য সম্প্রতি সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে জামায়াত নেতা লতিফুর রহমানের এসব বক্তব্য ফলাও করে প্রচার প্রকাশ হয়েছে।

 

এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই একই আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদও। তিনিও সরাসরি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে সভা-সমাবেশ করছেন।

 

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাতে (১৩ জানুয়ারি) চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য হারুনুর রশীদ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের চরবাগডাঙ্গা স্কুল মাঠে প্রকাশ্যে এক সমাবেশ করেছেন এক গরু ব্যবসায়ীকে গুম করার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার আসামি আওয়ামী লীগ নেতাদের পক্ষে। হারুনের ওই সমাবেশ মঞ্চে গুম মামলার আসামিরাও উপস্থিত ছিলেন যথারীতি।

 

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, গুম হওয়া গরু ব্যবসায়ী গোলকাজুল ওরফে কাজল (৩৫) একজন বিএনপি কর্মী। অন্যদিকে আসামিরা অধিকাংশই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সংগঠনের পদধারী নেতা।

 

এলাকাবাসী আরও বলছেন, বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট নিজেদের পক্ষে টানতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের নেতাদের মধ্যে রীতিমতো কাড়াকাড়ি শুরু হয়েছে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৩০ ডিসেম্বর বিকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লতিফুর রহমান সদর উপজেলার ফাটাপাড়া মদন মোড়ে দলের এক উঠান বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, কেউ আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াতে যোগ দিলে তিনি সব দায়িত্ব নেবেন। আওয়ামী লীগ থেকে আপনারা আমাদের দলে আসবেন। আপনাদের সব দায়িত্ব আমরা নেব। জেলখানা, থানা পুলিশ-সব আমরা দেখব ইনশাআল্লাহ।

 

তিনি আরও বলেন, আপনারা আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াতে জয়েন করেন, বিএনপি থেকে জয়েন করেন। জামায়াতকে আগের জামায়াত মনে করিয়েন না। পরিবর্তিত অবস্থায় জামায়াত এখন খুবই শক্তিশালী।

 

একই দিনের আরেকটি পৃথক সমাবেশে জামায়াতের সাবেক এই সংসদ সদস্যকে বলতে শোনা গেছে- আপনারা যারা আওয়ামী লীগ থেকে এসেছেন, নির্দ্বিধায় এখানে থাকবেন। আইন-আদালত কোর্ট কাছারি থানা-পুলিশ সব দায়িত্ব আমরা নেব।

 

উল্লেখ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুল ইসলাম বুলবুলের পক্ষে সভা-সমাবেশকালে লতিফুর রহমান তার বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট নিজেদের পক্ষে টানতে এভাবেই বক্তব্য দেন। এর আগে তিনি স্থানীয় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে জামায়াতে যোগদান অনুষ্ঠান করে বক্তব্য দিয়ে সমালোচিত হন। ওই সময় জামায়াত নেতা লতিফুর রহমানের এসব বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন বিএনপি প্রার্থী হারুন।

 

অন্যদিকে জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, বিএনপি প্রার্থী হারুন মনোনয়ন পাওয়ার আগে থেকেই বিভিন্ন সভা সমাবেশ করেছেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পাশে বসিয়ে। তিনি সরাসরি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে বিএনপি প্রার্থী হারুন চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের চরবাগডাঙ্গা স্কুল মাঠে এক সমাবেশ করেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে। স্থানীয় বিএনপি কর্মী গোলকাজুল ওরফে কাজলের নিখোঁজ ও গুম হওয়ার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামি আওয়ামী লীগের নেতাদের কয়েকজনকে পাশে বসিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন তিনি।

 

এ সময় মঞ্চে হারুনের বাম পাশে বসা ছিলেন বিএনপি কর্মী কাজল গুম মামলার ৫নং আসামি জেলা তাঁতী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম। হারুন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর আলীর সঙ্গে একদিন আগে তার ফোনে কথা হওয়ার প্রসঙ্গটিও বক্তব্যে তুলে ধরেন। তিনি কাজল গুমের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটিকে মিথ্যা মামলা বলে দাবি করে মামলাটি দ্রুত সময়ে প্রত্যাহারের দাবি করেন।

 

বিএনপি প্রার্থী হারুন বক্তব্যে থানার ওসিকে সতর্ক করে আরও বলেন, মিথ্যা মামলা কেন নিয়েছেন তার জবাবদিহি করতে হবে। যারা এ মিথ্যা মামলা করেছেন তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। আগামী নির্বাচনে চরবাগডাঙ্গা এলাকায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর আলীর (গুম মামলার ৪নং আসামি) নেতৃত্বে তার নির্বাচনি কার্যক্রম চলবে।

 

তিনি গুম হওয়া বিএনপি কর্মী কাজলকে চোরাকারবারি অ্যাখ্যায়িত করে বলেন, কিভাবে সে কোথায় গেছে- এটা পুলিশকে খুঁজে দেখতে হবে। আমি কোনো অন্যায় কাজকে সমর্থন দিব না। এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তিনি সবাইকে অনুরোধ করেন।

 

খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, গুম হওয়া বিএনপি কর্মী কাজলকে ২ জানুয়ারি রাতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় আলমসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এরপর সে আর ফিরে আসেনি। নিখোঁজ কাজলের স্ত্রী লিমা বেগম ৮ জানুয়ারি সদর থানায় গুমের মামলা করেন; যে মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা ওমর আলী ও নুরুল ইসলামসহ ৮ জনকে আসামি করা হয়।

 

আসামি আওয়ামী লীগ নেতাদের পক্ষে বিএনপি প্রার্থী হারুনের দেওয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গুম হওয়া কাজলের ভাই শওকত আলী বলেন, আওয়ামী লীগের ভোট নিতে নেতারা এখন অপরাধীদের পাশে বসিয়ে সভা সমাবেশ করছেন।

 

তিনি অভিযোগ করেন, তার ভাই বেঁচে আছেন কিবা তাকে মেরে কোথাও মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে- সেই বিষয়ে তারা এখনো অন্ধকারে আছেন। পুলিশকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ বাস্তবে গুম হওয়া কাজলকে উদ্ধার অথবা তার লাশ উদ্ধারে তৎপর নয়। আমরা এখন অসহায়। কেউ আমাদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন না। বরং আসামিদের নিয়ে সভা করছেন। তাদের রক্ষা করছেন।

 

এর আগে ৯ জানুয়ারি রাতে সদর উপজেলার নয়াগোলা কল্যাণপুর যুব সংঘের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ক্রিকেট ম্যাচের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্যে বিএনপি প্রার্থী হারুন বলেন, আওয়ামী লীগ এখন আর ভোট করছে না। এখন তারা কাকে ভোট দেবে, সেটা তাদের নিজস্ব পছন্দের বিষয়; কিন্তু এখন জামায়াতের লোকেরা যদি বলে, এই লোক আওয়ামী লীগ করে, একে ধরেন। আমি খুব তীব্রভাবে বলেছি, যাদের (আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী) বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই, মামলা নেই, এমন কোনো মানুষকে যেন হয়রানি করা না হয়। যদি হয়রানি করা হয়, তাহলে আমি জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে থানা ঘেরাও করব। এটা আমি পরিষ্কারভাবে বলে দিচ্ছি।

 

তিনি আরও বলেন, এই শহরে কিংবা এই দেশে আওয়ামী লীগের লোকজন বসবাস করছে। সবাই কি অপরাধ করেছে? আওয়ামী লীগের সময় আমরা বাড়িতে ছিলাম, তবুও আমাদের নামে মামলা হয়েছে। তাই এখন যারা নিরপরাধ, কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়, তাদের যদি মিথ্যা মামলায় ধরে নিয়ে যাওয়া হয়, তাহলে পার্থক্যটা কোথায়?

 

আওয়ামী লীগের ভোট টানতে বিএনপি-জামায়াতের প্রকাশ্য তৎপরতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির আবুজার গিফারি বুধবার সকালে বলেন, আমরা মানুষকে হয়রানিতে বিশ্বাস করি না। আমরা বলছি আপনাদের যাকে ভালো লাগে তাকেই ভোট দেন। আওয়ামী লীগের লোকেরাও তো এ দেশেরই নাগরিক। কেউ অপরাধ করলে তার জন্য আইন আদালত আছে; কিন্তু আমরা কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানির পক্ষে নই। আওয়ামী লীগের সমর্থকরা যদি কেন্দ্রে ভোট দিতে যান, নির্বাচনি আইনে আমরা তাদের বাধা দিতে পারি না। দেখলাম গুম মামলার আসামিদের পক্ষে সরাসরি দাঁড়িয়ে সমাবেশ করেছেন একজন প্রার্থী। এটা ঠিক নয়।

 

অন্যদিকে শুধু কি ভোট টানতে গুম মামলার আসামি আওয়ামী লীগ নেতাদের পাশে বসিয়ে সমাবেশ করেছেন- এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী হারুনুর রশীদ বলেন, মঙ্গলবার রাতে আমি চরবাগডাঙ্গায় গিয়েছিলাম এক সমাবেশে। সবাই এলাকার মানুষ। সবার ভালো-মন্দ দেখা ও খোঁজ নেওয়া আমার দায়িত্ব। কেউ যদি বিএনপিকে ভোট দেন আমি তো কাউকে বাধা দিতে পারি না। সে যে দলেরই লোক হোক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা