May 19, 2026, 12:43 pm
শিরোনাম :
জয়পুরহাট জেলা প্রেসক্লাবের নবগঠিত কমিটির অভিষেক ও গুণীজন সংবর্ধনা ১০ নং জাবরহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে আবারও আব্দুস সবীর সফিরকে চায় জনগণ ও বিএনপির তৃণমূল কুড়িগ্রাম পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আসছেন সাবেক ভিপি মোঃ আব্দুর রহিম শামীম চট্টগ্রামে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা এসপি মাসুদ আলমের যশোরের বাঘারপাড়া খাজুরায় আটক মাদক কারবারির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চট্টগ্রামে ১৯ মে থেকে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা রংপুরে বি.আর.টিসি বাসের ভয়াবহ দুর্ঘটনা : নিহত ১, আশঙ্কা জনক অবস্থায় আহত আরকজন স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতির মাধ্যমে জনকল্যাণে কাজ করতে চান এইচ এম লুৎফর রহমান। কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে কোনো অরাজকতা চলবে না : চসিক মেয়র শ্রীবরদীতে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন

কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে কোনো অরাজকতা চলবে না : চসিক মেয়র

Reporter Name

কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে কোনো অরাজকতা চলবে না : চসিক মেয়র

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

কোরবানির পশুর চামড়ার অব্যবস্থাপনার কারণে যাতে নগরীর পরিবেশ নষ্ট না হয় এবং কোরবানিদাতারা ভোগান্তির শিকার না হন, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেছেন, কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে কোনো ধরনের অরাজকতা চলবে না। কোরবানির সময় চামড়া ব্যবস্থাপনায় সামান্য অব্যবস্থাপনাও নগরবাসীর জন্য বড় ধরনের দুর্ভোগ সৃষ্টি করতে পারে। তাই ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নগরকে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে চসিক, জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ১৭ মে(রোববার) নগরভবনে কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের সঙ্গে আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মেয়র বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নগরের বাইরের চামড়া এনে কৃত্রিমভাবে দাম কমানোর চেষ্টা করে। আবার কিছু খণ্ডকালীন বা মৌসুমি ব্যবসায়ী একদিনের জন্য ব্যবসায় নেমে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে চামড়া রাস্তায় ফেলে চলে যায়। এতে পরিবেশ দূষিত হয়, দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয় এবং নগরবাসীকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনেক সময় রাস্তায় পড়ে থাকা চামড়ার কারণে দুর্ঘটনাও ঘটে।
ডা. শাহাদাত বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে যেকোনোভাবে শহরটাকে ক্লিন রাখা। কোরবানির পশু জবাইয়ের পর দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও চামড়া সংরক্ষণ না করা গেলে পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও এ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।”
তিনি বলেন, গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। খণ্ডকালীন ব্যবসায়ীরা যাতে চামড়া রাস্তায় ফেলে না দেয়, সেজন্য আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত দামে চামড়া কিনে নেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। এতে পরিবেশও রক্ষা পাবে, নগরও পরিচ্ছন্ন থাকবে।
মেয়র আরও বলেন, “আমরা চাই ঈদুল আজহার সময় নগরে কোনো ধরনের অরাজকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হোক। চামড়া ব্যবস্থাপনায় সবাই দায়িত্বশীল হলে কোরবানিদাতারাও ন্যায্য মূল্য পাবেন, পরিবেশও সুরক্ষিত থাকবে।”
সভায় চামড়া ব্যবসায়ীরা লবণের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা, ট্যানারি মালিকদের কাছে চট্টগ্রামের আড়তদারদের পাওনা কোটি কোটি টাকা পরিশোধ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে সক্ষমতার বাইরে চামড়া সংগ্রহ না করে সে বিষয়ে সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত লবণ মজুদ করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে আড়তদার সমিতিকে অনুরোধ করার সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া লবণের মূল্য সহনীয় রাখা ও উপজেলা পর্যায়ে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের লক্ষ্যে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিসিককে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পশুর হাটগুলোতে ভেটেরিনারি চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং পশুর চামড়া ছাড়ানো ও সংরক্ষণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদানের লক্ষ্যে প্রচার কার্যক্রম চালানোর জন্য প্রাণিসম্পদ বিভাগকে অনুরোধ করা হয়।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আড়তদার ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান যাতে সক্ষমতার অধিক চামড়া সংগ্রহ না করে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দেওয়া হবে। পাশাপাশি সন্নিহিত জেলা ও উপজেলা থেকে ঈদের দিন ও পরবর্তী দুই দিন মহানগরীতে কোরবানির পশুর চামড়া প্রবেশ বন্ধে চেকপোস্ট বসানোর জন্য জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে বিভাগীয় কমিশনার ও ডিআইজি, চট্টগ্রাম রেঞ্জকে অনুরোধ জানানো হয়।
বিগত বছরের মতো এবারও প্রয়োজনীয় সংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করে চামড়া ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম তদারকি এবং বাইরের অতিরিক্ত চামড়া নগরীতে প্রবেশ রোধে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করা হয়।
এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত লবণ মজুদ রাখা এবং খুচরা চামড়া ব্যবসায়ীদের লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে বিভাগীয় কমিশনারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় বক্তব্য দেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আলহাজ মোহাম্মদ মুসলিম উদ্দিন, সহসভাপতি সম্রাট মোহাম্মদ শাহজাহান, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউনুছ, উপদেষ্টা মোরশেদুল আলমসহ চামড়া ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা