June 4, 2026, 7:40 pm
শিরোনাম :
চট্টগ্রামের বর্জ্য থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে আগ্রহী চীনা কনসোর্টিয়াম নওগাঁর পোরশায় মাদকবিরোধী অভিযানে দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক নিরাপদ নয় শৈশব?”— হাতীবান্ধায় বৃদ্ধ ভ্যানচালকের লোলুপ দৃষ্টির শিকার শিশু পতেঙ্গায় ৫ লাখ টাকার চোরাই কয়লা জব্দ ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের মানুষের সেবায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক ফখরুল ইসলাম বিএসএফের গুলির অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ চট্টগ্রাম বন্দরের জট কমাতে আরও ১০২ কন্টেইনার পণ্য নিলামে ৬ দফা দাবিতে চমেক ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের মানুষের সেবায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক ফখরুল ইসলাম অকটেন, কেরোসিন ও পেট্রোলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ করেছে বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টি

অবরুদ্ধ শৈশব: চাদরে ঢাকা রক্তাক্ত লাশের মিছিল ও আমাদের বিবেক!

Reporter Name

অবরুদ্ধ শৈশব: চাদরে ঢাকা রক্তাক্ত লাশের মিছিল ও আমাদের বিবেক!
শিশু ধর্ষণ ও হত্যা, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং আইনজীবীদেচর ঐতিহাসিক প্রতিরোধের ঘোষণা।
এ নিয়ে জাহারুল ইসলাম জীবনের লেখা ও সম্পাদনায় একটি বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।
একটি সভ্য সমাজের মেরুদণ্ড কতটা ভেঙে পড়লে… একটি রাষ্ট্রের বিচারিক কাঠামোর ভিত কতটা নড়বড়ে হলে, প্রতিনিয়ত নিষ্পাপ শিশুদের লাশের ওপর দাঁড়িয়ে আমাদের বিচারের আকুতি জানাতে হয়? ঢাকা মিরপুরের ছোট্ট শিশু রামিসা কিংবা মাগুরার আছিয়া- এরা কেবল একেকটি নাম নয়, এরা আমাদের সমষ্টিগত বিবেকের ওপর একেকটি নির্মম আঘাত। দিনের পর দিন বিকৃত কামোদ্দীপক মানুষরূপী পশুদের থাবায় বাংলার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠছে কোমলমতি শিশুদের আর্তনাদে। এই পৈশাচিকতার শেষ কোথায়?
প্রতিবেদক জাহারুল ইসলাম জীবনের লেখা ও সম্পাদনায় রচিত বিশেষ প্রতিবেদনে এমন করুন চিত্র ফুঁটে উঠেছে ভাষার স্তম্ভিত আওয়াজে……….
➤”যে হাতগুলোর আজ খাতা-কলম ছুঁয়ে থাকার কথা ছিল, যে অবুঝ চোখগুলোয় থাকার কথা ছিল আগামীর স্বপ্নমাখা ভবিষ্যৎ- সেই হাত আর চোখগুলো আজ নিথর, রক্তাক্ত। বিকৃত লালসার শিকার হয়ে তারা আজ মাটির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে অনন্তকালের গহ্বরে।”
সবচেয়ে বড় অ্যালার্মিং এবং হৃদয়ে শিহরন জাগানো বাস্তবতা হলো- এই নরপশুরা বাইরের কোনো ভিনগ্রহের প্রাণী নয়। এরা লুকিয়ে আছে আমাদের চেনা গণ্ডির ভেতরেই। ধর্মীয় শিক্ষার পবিত্র আঙ্গিনা মাদ্রাসা, আবাসিক হল থেকে শুরু করে বাসার প্রাইভেট টিউটর, আধুনিক স্কুল, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নামধারী কিছু বিকৃত মস্তিস্কের থাবায় আজ ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে শৈশব। নিজেদের পাপ ঢাকতে ধর্ষণ-পরবর্তী যে বীভৎস কায়দায় শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে, তা যেকোনো সুস্থ মানুষের রক্ত হিম করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
সাধারন জনতার কন্ঠে যে সুর প্রতিনিয়ত-ই শোনা যাই- “আমরা আর কত শিশুর লাশ দেখব? রাষ্ট্র যদি আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা দিতে না পারে, তবে এই বিচার ব্যবস্থার কাজ কী? এই পণ্ডশ্রম বন্ধ হওয়া দরকার।”
তবে এই অন্ধকারের মাঝেই আশার আলো দেখাচ্ছে দেশের বিবেকবান আইনজীবী সমাজ। রামিসা ও আছিয়া হত্যা মামলার প্রেক্ষাপটে্ আদালত পাড়া থেকে উচ্চারিত হয়েছে নজিরবিহীন এক বজ্রকণ্ঠ। আইনজীবীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো আইনি সহায়তা পাবে না এই খুনি ও ধর্ষকেরা।
“রামিসা ও আছিয়া হত্যা মামলায় আমরা কোনো আইনজীবী আসামিপক্ষে আইনি লড়াই করব না। আমরা লড়বো রামিসার বাবার পক্ষে, যাতে এই পশুদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রকাশ্যে ফাঁসি নিশ্চিত হয়।”
আইনজীবীদের এই অবস্থান প্রমাণ করে- আজ সবার পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। সনাতন আইনি ধারার মারপ্যাঁচে যেন কোনো শিশু হত্যাকারী পার না পেয়ে যায়, সেজন্য জরুরি ভিত্তিতে ব্রিটিশ আমলের আইন সংশোধনের দাবি এখন সময়ের। একই সাথে দাবি উঠেছে, রাজপথে প্রকাশ্যে দৃষ্টান্তমূলক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার মতো কঠোরতম বিধান আনার- যা দেখে কেঁপে উঠবে অন্য অপরাধীদের অন্তরাত্মা।
আজকের প্রেক্ষাপটে্ রামিসার রক্ত যেন বৃথা না যায়- এটাই হোক আজ সমগ্র বাংলাদেশের একমাত্র সংকল্প। বিচার ব্যবস্থার দ্রুততম প্রয়োগ এবং অপরাধীর ভয়ানক পরিণতি নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল এই বিভৎসতার অবসান সম্ভব। আর কোনো শিশুর রক্তাক্ত লাশের অপেক্ষা নয়, এখনই সময় এই বিকৃত মানসিকতার নরপশুদের মুখোশ টেনে হিঁচড়ে খুলে ফেলে সমাজ থেকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করার।
Golden television. ঢাকা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা