June 5, 2026, 6:17 am
শিরোনাম :
চট্টগ্রামের বর্জ্য থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে আগ্রহী চীনা কনসোর্টিয়াম নওগাঁর পোরশায় মাদকবিরোধী অভিযানে দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক নিরাপদ নয় শৈশব?”— হাতীবান্ধায় বৃদ্ধ ভ্যানচালকের লোলুপ দৃষ্টির শিকার শিশু পতেঙ্গায় ৫ লাখ টাকার চোরাই কয়লা জব্দ ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের মানুষের সেবায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক ফখরুল ইসলাম বিএসএফের গুলির অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ চট্টগ্রাম বন্দরের জট কমাতে আরও ১০২ কন্টেইনার পণ্য নিলামে ৬ দফা দাবিতে চমেক ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের মানুষের সেবায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক ফখরুল ইসলাম অকটেন, কেরোসিন ও পেট্রোলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ করেছে বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টি

ফেসবুকে উসকানি, তারপর ঘরে ঢুকে দা দিয়ে কুপিয়ে হামলা-মৌলভীবাজারে পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা ! আতঙ্কে পরিবার

Reporter Name

ফেসবুকে উসকানি, তারপর ঘরে ঢুকে দা দিয়ে কুপিয়ে হামলা-মৌলভীবাজারে পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা ! আতঙ্কে পরিবার

স্টাফ রিপোর্টার, মৌলভীবাজার:

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মাতারকাপন এলাকায় পূর্ব বিরোধের জেরে ফেসবুক লাইভ ও ভিডিও প্রকাশ করে এক ভয়াবহ পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন এবং বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনাটি ঘটে গত ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ইং, সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নাজমিন চৌধুরী নামের এক গৃহবধূ বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এতে আজিম মিয়া, জহির মিয়া এবং তাদের সহযোগীদের অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আজিম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের চেষ্টা করে আসছে। স্থানীয় প্রবীণ মুরব্বি ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জহির মিয়ার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় আজিম মিয়া প্রায়ই এলাকাবাসীর সঙ্গে অসদাচরণ করে থাকে।

একটি বিশ্বস্ত সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, মাতারকাপন এলাকায় আজিম মিয়া তার সহযোগীদের নিয়ে মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী হামলা চালানো হয়। প্রথমে জহির মিয়ার নির্দেশে আজিম মিয়া একটি পরিকল্পনা তৈরি করে। এরপর তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি “Ajim Ahmed Arafat” থেকে লাইভে আসার আগে একটি ভিডিও ধারণ করা হয়।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, আজিম মিয়া ফাহিমুল ইসলামের বাড়ির পাশে গিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করছে এবং তাকে ঘর থেকে বের করে আনার চেষ্টা করছে। এমনকি বাড়ির দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতেও দেখা যায়।

ভিডিওতে আরও শোনা যায়, ফাহিমুল ইসলাম ও আশপাশের কয়েকজন ব্যক্তি আজিম মিয়াকে সেখান থেকে চলে যেতে অনুরোধ করছেন। এ সময় একাধিক ব্যক্তিকে “দা নিয়ে চলে আয়” বলে উসকানি দিতেও শোনা যায়। এরপর ভিডিওটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়।

পরবর্তীতে অভিযোগ অনুযায়ী, আজিম মিয়া তার সহযোগীদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ ফাহিমুল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালায়। দা দিয়ে মাথায় কুপিয়ে ফাহিমুল ইসলামকে গুরুতর জখম করা হয়। এছাড়া লাঠি, রডসহ বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয় এবং ঘরের টিভি, ক্যাবিনেটসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। একই সঙ্গে ক্যাবিনেটে থাকা প্রায় ৩ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

গুরুতর আহত অবস্থায়ও ফাহিমুল ইসলাম তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে রক্ষার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার মাথায় একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

অন্যদিকে, হামলার পরপরই আজিম মিয়া তার ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে নিজেকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখিয়ে ফাহিমুল ইসলামের বিরুদ্ধে উল্টো অভিযোগ তোলে এবং দ্রুত পুলিশ পাঠানোর আহ্বান জানায়। পরে সে লাইভ করতে করতে সিএনজি যোগে সদর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

তবে পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ঘটনার পূর্বে ধারণ করা ভিডিও—যেখানে উসকানি, গালাগালি ও হামলার প্রস্তুতির দৃশ্য ছিল—তা ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে আজিম মিয়া তার আইডি থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বা ডিলিট করা হয়েছে। ভিডিওটি দেখেছেন এমন কয়েকজন জানান, এতে স্পষ্টভাবে পরিকল্পিত হামলার আলামত ছিল, যা বুঝতে পেরে সেটি মুছে ফেলা হয়েছে বলে তাদের ধারণা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আজিম মিয়া, জহিরুল ইসলাম ও আলিম মিয়া এবং তাদের সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছে এবং প্রায়ই তুচ্ছ ঘটনায় হামলা ও মামলায় জড়িয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য, আলিম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করে আজিম, জহিরুলসহ অন্যান্যদের ফোনের মাধ্যমে অপকর্মের জন্য অর্থ ও কুপরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় নাজমিন চৌধুরীর অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।

ভুক্তভোগী নাজমিন চৌধুরী বলেন,
“আমরা এখনও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তারা আমাদের দেখলেই অশ্লীল গালাগালি করছে। আমি জেলা পুলিশের কাছে অনুরোধ করছি, আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা