
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শতবর্ষী খাল ভরাট করে দখল, কৃষি ও জনজীবনে বিপর্যয়ের আশঙ্কা,এ কাজে ‘মেসার্স লোকমান বিল্ডার্স স্টোন ক্রাশার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশজুড়ে প্রভাবশালীদের দ্বারা সরকারি খাল ভরাট ও দখলের অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। এর ফলে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে সেচ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে এবং জলাবদ্ধতার ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এমনই এক ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নয়নপুর ও চন্ডাখীল এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শত বছরের পুরনো একটি খাল—যা পূর্বপুরুষের আমল থেকে কৃষিকাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে—তা সম্প্রতি এক প্রভাবশালী ব্যক্তি অবৈধভাবে ভরাট করে দখল করে নিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, কোনো ধরনের প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই খালটি ভরাট করে সেখানে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে ওই রাস্তা ব্যবহার করা হচ্ছে ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক মালামাল পরিবহনে। এ কাজে ‘মেসার্স লোকমান বিল্ডার্স স্টোন ক্রাশার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, খালটি ভরাট করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা কৃষি উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরশহরের পুনিয়াউট, সরকার পাড়া, পৈরতলা, ছয়বাড়িয়া ও নয়নপুর এলাকার পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ ছিল এই খালটি।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, খালটি ছিল এলাকার কৃষির প্রধান পানির উৎস। এটি বন্ধ হয়ে গেলে অন্তত ২০০ থেকে ৩০০টি কৃষক পরিবার সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়বে এবং তাদের জীবিকা হুমকির সম্মুখীন হবে।
একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই খালটি আমাদের কৃষির প্রাণ। এটি বন্ধ হয়ে গেলে অপূরণীয় ক্ষতি হবে। আমরা প্রতিবাদ করতে গেলে আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে জোরপূর্বক খাল ভরাট করা হয়েছে। এমনকি মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয়ও দেখানো হচ্ছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, “আমি বাধা দেওয়ায় আমাকে দুই লাখ টাকার চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আমি চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।”
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং খালটি পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন, যাতে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ও কৃষি ব্যবস্থা পুনরায় সচল রাখা যায়।