মুগদার মানিকনগরে গভীর রাতে প্রাইভেটকার থেকে ৩২ কেজি গাঁজা উদ্ধারের দাবি, গাড়ি জব্দ
প্রিয়া চৌধুরী
রাজধানীর মুগদা থানার মানিকনগর বালুরমাঠ এলাকায় গভীর রাতে একটি প্রাইভেটকারকে কেন্দ্র করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে নজরদারির পর একটি প্রাইভেটকার থেকে প্রায় ৩২ কেজি গাঁজা পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং পরে পুলিশ গাড়িটি জব্দ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মানিকনগরের ‘ভূতের গলি’ এলাকায় ঢাকা মেট্রো-গ ২৬-৮২৮৯ নম্বরের একটি প্রাইভেটকার প্রবেশ করে। গাড়িটিতে দুই নারী ও একজন যুবক ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি পরিচয় জানতে চান। এ সময় এক নারী আত্মীয়ের বাসায় আসার কথা বললেও তিনি নির্দিষ্ট বাসার অবস্থান বলতে পারেননি বলে স্থানীয়দের দাবি।
পরবর্তীতে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও এক সাংবাদিক। গাড়িটির গতিবিধির ওপর নজর রাখেন। অভিযোগ রয়েছে, রাত প্রায় ২টার দিকে গাড়ি থেকে বস্তাভর্তি মালামাল সরানোর সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক বাধা দিলে গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এ সময় কিছু প্যাকেট ফেলে রেখে যাওয়ার অভিযোগও ওঠে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে মোট আটটি প্যাকেট ছিল এবং প্রতিটি প্যাকেটে আনুমানিক চার কেজি করে গাঁজা ছিল। সেই হিসাবে উদ্ধারকৃত গাঁজার পরিমাণ প্রায় ৩২ কেজি বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে উদ্ধারকৃত মাদকের প্রকৃত পরিমাণ ও বিস্তারিত তথ্য তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করবে পুলিশ। এ সময়
খবর পেয়ে মুগদা থানার পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে চলে আসে এবং তল্লাশি চালায়। স্থানীয়দের দাবি, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা শিশির কুমার কর্মকার, ফাঁড়ির ইনচার্জ কাইয়ুম বাহাদুর, এএসআই আলিম, কনস্টেবল সুলতানসহ অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কনস্টেবল সুলতান ঝুঁকি নিয়ে পাশের একটি ভবনের নিচে তল্লাশি চালিয়ে আরও কয়েকটি প্যাকেট উদ্ধার করেন। যার ৮ টি প্যাকেটের মধ্যে থেকে ৪,টি প্যাকেট কারা যানি। সরিয়ে রাখে এবং সেই মাল উদ্ধার করে কনস্টেবল সুলতান।
এ ঘটনায় তার ভূমিকার প্রশংসা করেছেন উপস্থিত অনেকেই।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, উদ্ধার হওয়া মাদকের মালিকানা ও এর সঙ্গে কারা জড়িত—তা নিয়ে এলাকায় নানা ধরনের আলোচনা চলছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ বিভিন্ন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করলেও পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তি বা চক্রকে দায়ী করার সুযোগ নেই।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে। গাড়ির নিবন্ধন তথ্য, মালিকানা এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে মানিকনগর এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই মাদকের বিস্তার ঘটছে। সাম্প্রতিক এই ঘটনায় তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এত বড় চালান উদ্ধারের ঘটনা প্রমাণ করে যে এলাকায় সক্রিয় কোনো মাদকচক্র কাজ করছে। তবে এ ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা নির্ধারণ করবে পুলিশের চলমান তদন্ত।
স্থানীয়রা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। বিস্তারিত আসছে খুব শিগগিরই।