বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৯:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গফরগাঁওয়ে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে খামার দখল করে মাছ লুটের অভিযোগ ‎হাম আক্রান্ত শিশুদের সুচিকিৎসায় দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি পেশ- ত্রিশালে জুয়ার আসরে পুলিশের হানা আটক তিন জুয়ারী মনপুরায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বড় উদ্যোগ: বসছে ২৮ কিলোমিটার সাবমেরিন ক্যাবল মহানন্দা সেতুর টোল প্রত্যাহারের দাবিতে ডিসি অফিস ঘেরাও ​চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির সাঁড়াশি অভিযান ৪টি ভারতীয় গরু জব্দ মৌলভীবাজারসহ সর্বত্র বাড়ছে মাদক, কিশোর গ্যাং, ধর্ষণ ও লাশের মিছিল: নীরব সমাজ কি অপরাধীদের শক্তি দিচ্ছে? — মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী লাল চুড়ি পরুন: নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর মুন্সিগঞ্জ দক্ষিন ইসলাম পুরের জাতীয়তাবাদী দলের নেতা মোঃ অদুদ মিয়ার বার্তা। গোবিন্দগঞ্জের নাকাই হাটে জমির সিমানা বিরোধে সংঘর্ষে নিহত ১ আহত -১০

গফরগাঁওয়ে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে খামার দখল করে মাছ লুটের অভিযোগ

Reporter Name

গফরগাঁওয়ে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে খামার দখল করে মাছ লুটের অভিযোগ

ক্রাইম রিপোর্টার
আদিলুর রহমান আদিল

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সালেহ আকরাম খান তসলিমের বিরুদ্ধে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মৎস্য খামার দখল, হামলা, মাছ লুট এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে

বুধবার ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন জুলাইযোদ্ধা মঈন খান ও গফরগাঁও সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তুষার খান।

ভুক্তভোগীরা জানান, গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার স্বল্পছাপিলা গ্রামে নিজেদের জমিসহ স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে জমি ভাড়া নিয়ে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে একটি বাণিজ্যিক মৎস্য খামার গড়ে তোলেন মঈন খান ও তার স্বজনেরা। খামারের জন্য স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কাঠা জমি বছরে ৫ হাজার টাকা হারে মৌখিক চুক্তিতে লিজ নেওয়া হয়। এতে স্থানীয় জামে মসজিদের ওয়াকফকৃত সম্পত্তিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

মঈন খানের দাবি, এর আগে একই মৎস্য প্রকল্প লিজ নিয়েছিলেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সালেহ আকরাম খান তসলিম। কিন্তু ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিন বছর জমির মালিকদের লিজের টাকা পরিশোধ করেননি তিনি। এমনকি মসজিদের ওয়াকফকৃত সম্পত্তির প্রায় ৬৩ হাজার টাকাও বকেয়া রাখেন। পরে জমির মালিকেরা তার সঙ্গে লিজ চুক্তি বাতিল করে নতুন করে মঈন খানের সঙ্গে চুক্তি করেন। এ ঘটনায় যুবদল নেতা তসলিম ৪২ জন কৃষকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ দুপুরে সালেহ আকরাম খান তসলিম অজ্ঞাতনামা লোকজন নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ মৎস্য খামারে প্রবেশ করেন। এ সময় শ্রমিকদের মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। খবর পেয়ে মঈন খান ও তার স্বজনেরা ঘটনাস্থলে গেলে তসলিম তার হাতে থাকা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে মঈন খানের বড় ভাই সারোয়ার হোসেনের মাথায় কোপ দেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় পাগলা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান অভিযোগকারী। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

মঈন খানের আরো অভিযোগ, চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে যুবদল নেতা তসলিম রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অস্ত্রধারী লোকজন নিয়ে তাদের খামার থেকে দফায় দফায় মাছ লুট করে নিয়ে যান। লুট হওয়া মাছের আনুমানিক দাম সাড়ে ৭ লাখ টাকা। এছাড়া খামারের আশপাশে গেলে তাদের হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি। অথচ এখন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আমাদের জীবিকা দখল করা হচ্ছে। দায়িত্বশীল নেতাদের জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।’

সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে তিনি প্রশাসনের কাছে চার দফা দাবি জানান। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— দখলকৃত মৎস্য খামার উদ্ধার, লুট হওয়া মাছের ক্ষতিপূরণ আদায়, পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্ত যুবদল নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে যুবদল নেতা সালেহ আকরাম খান তসলিম জানান, ২২ কাঠা জমিতে অভিযোগকারীরা মাছ চাষ করত। তবে এ নিয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা