গণতন্ত্রে নারীর অংশগ্রহণ শুধু একটি অধিকার নয়, একটি শক্তিশালী, ন্যায়ভিত্তিক ও প্রতিনিধিত্বমূলক রাষ্ট্র গঠনের অপরিহার্য শর্ত।
বিশ্বজুড়ে তৃণমূল পর্যায়ে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়লেও নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে তাঁদের উপস্থিতি এখনো আশানুরূপ নয়।
প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো হলো—
🔹 পিতৃতান্ত্রিক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য
🔹 নির্বাচনী প্রচারণায় অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা
🔹 রাজনৈতিক ও অনলাইন হয়রানি এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা
🔹 কেবল কোটা পূরণের জন্য মনোনয়ন, কিন্তু প্রকৃত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সীমিত ভূমিকাবাংলাদেশের বাস্তবতা বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে নারী নেতৃত্ব জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তবুও সামগ্রিকভাবে নারীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এখনো সন্তোষজনক নয়।✔️ দেশের প্রায় অর্ধেক ভোটার নারী, এবং তাঁদের ভোট প্রদানের হারও উল্লেখযোগ্য।
✔️ ২০৩০ সালের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সব স্তরের কমিটিতে অন্তত ৩৩% নারী সদস্য রাখার লক্ষ্য রয়েছে।
✔️ জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকারে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাজেট ব্যবস্থাপনায় তাঁদের ভূমিকা সীমিত থাকে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।এগিয়ে যাওয়ার পথগুলো হলো-
✅ রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র শক্তিশালী করা এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীদের সুযোগ নিশ্চিত করা।
✅ সহিংসতা ও হয়রানিমুক্ত নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলা।
✅ যোগ্য নারী প্রার্থীদের জন্য আর্থিক সহায়তা ও নির্বাচনী তহবিলের সুযোগ বৃদ্ধি করা।
✅ তৃণমূল থেকে নেতৃত্ব বিকাশে প্রশিক্ষণ, মেন্টরশিপ ও সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা।
নারীর ক্ষমতায়ন মানে শুধু নারীর অগ্রগতি নয়—এটি একটি শক্তিশালী গণতন্ত্র, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র এবং সমতার সমাজ গঠনের ভিত্তি।
সেজুতি হোসাইন
সাভার, ঢাকা- ১৭ই জুলাই, ২০২৬