নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভুলইন উত্তর ইউনিয়নের বেতাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর হোসেনকে অটোরিকশা চুরির একটি মামলায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং পারিবারিক ও জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, প্রতিবেশী আবুল কাসেমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমি ও পারিবারিক বিরোধ চলে আসছে। সেই বিরোধের জেরেই আলমগীর হোসেনকে অটোরিকশা চুরির মামলায় আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঈদুল আজহার আগে আবুল কাসেম শহরে অটোরিকশা চালাতেন। এক রাতে তার অটোরিকশা ছিনতাই বা চুরি হয়েছে বলে তিনি এলাকায় জানান। পরে ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রতিবেশী আলমগীর হোসেনকে আসামি করা হয়। ঈদুল আজহার আগের রাতে লালমাই থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন এবং এখন পর্যন্ত জামিন পাননি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, আলমগীর হোসেন একজন সহজ-সরল ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি। অবসর জীবনে তিনি বেতাগাঁও মাদ্রাসা জামে মসজিদে বিনা পারিশ্রমিকে খাদেম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাদের দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলমগীর হোসেনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তাকে আদালতের কাঠগড়ায় হাতকড়া পরা অবস্থায় কান্নারত দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে, আবুল কাসেম ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অসামাজিক কার্যকলাপ এবং মিথ্যা মামলার মাধ্যমে মানুষকে হয়রানির অভিযোগও স্থানীয়দের একটি অংশ তুলেছেন।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, এমন দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।